E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

পোকা ধরা চাল-গম রেশন দোকানে নয়, কড়া বার্তা খাদ্যমন্ত্রীর

রবিবার বনগাঁ শহরের নীলদর্পণ অডিটোরিয়ামে বনগাঁ, হাবড়া ও গোবরডাঙা রেশন ডিলার সংগঠনের পক্ষ থেকে খাদ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১৭
রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া।

রেশন ব্যবস্থায় নিম্নমানের খাদ্যশস্য নিয়ে এবার কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। পোকা ধরা বা নিম্নমানের চাল-গম কোনও ভাবেই রেশন দোকানে ঢুকতে দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি। কোনও ডিস্ট্রিবিউটর রেশন ডিলারদের নিম্নমানের বা পোকা ধরা খাদ্যশস্য নিতে বাধ্য করলে সরাসরি খাদ্য দফতরকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে দফতরের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি।

রবিবার বনগাঁ শহরের নীলদর্পণ অডিটোরিয়ামে বনগাঁ, হাবড়া ও গোবরডাঙা রেশন ডিলার সংগঠনের পক্ষ থেকে খাদ্যমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে রেশন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে ডিলারদের উদ্দেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মন্ত্রী। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “খাদ্যশস্যের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। আপনারা পোকা ধরা চাল-গম নেবেন না বা সাধারণ মানুষকে দেবেন না। কোনও ডিস্ট্রিবিউটর যদি আপনাদের পোকা ধরা খাদ্যশস্য দিতে বাধ্য করে আমাকে জানাবেন। দফতরের পক্ষ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ করা হবে।”

রেশন ব্যবস্থায় ডিলারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী তাঁদের সতর্ক করে জানান, সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার দায়িত্বও রেশন ডিলারদের রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের কোনও সমস্যায় সরকার পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। অশোকের কথায়, “রেশন ডিলাররা আমার পরিবারের সদস্য। তাঁদের স্বার্থরক্ষা করা যেমন সরকারের কাজ, তেমনই তাঁদেরও সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।”

শুধু নিম্নমানের খাদ্যশস্য নয়, রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও এ দিন সরব হন খাদ্যমন্ত্রী। কোনও সরকারি আধিকারিক রেশন ডিলারের কাছে উপঢৌকন চাইলে সরাসরি খাদ্য দফতরে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগকারীর নাম গোপন রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারি আধিকারিকেরা সরকারের কাছ থেকে বেতন পান। তাই তাঁদের কোনও ধরনের উপঢৌকন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে উপঢৌকন দেওয়া এবং নেওয়া—দু’টিই দোষের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী দাবি করেন, ইতিমধ্যেই কয়েকজন সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নজরদারি চলছে বলেও জানান তিনি। অশোক বলেন, “এসটিএফ ঘুরে বেড়াচ্ছে। ধরা পড়লে চাকরি যাবে।”

রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরানোর পাশাপাশি প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে খাদ্য সুরক্ষার সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও এ দিন তুলে ধরেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অতীতে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পে যোগ্য বহু মানুষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অন্য দিকে, দলের ক্যাডাররা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অশোকের কথায়, “আমরা কথা দিচ্ছি, প্রকৃত গরিব মানুষের কাছে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষার কার্ড পৌঁছে যাবে। আমাদের একটু সময় দিতে হবে। মনে রাখবেন, সরকারের বয়স মাত্র চার মাস।”

রেশন ডিলারদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও জানান, অতীতে কয়েকজন রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গোটা রেশন ডিলার সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে সেই সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলে তাঁর দাবি। সরকারের সঙ্গে রেশন ডিলারদের সমন্বয় আরও মজবুত করার উপরেও জোর দেন তিনি।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Ashok Kirtania Bangaon

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy