অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফের এফআইআর দায়ের করা হল ডায়মন্ড হারবারে। পৈলানের একটি রিসর্ট আটকে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। রিসর্টের প্রতিনিধি বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানিয়েছেন, সেবাশ্রয়ের জন্য ৪০ দিন তাঁদের রিসর্ট বন্ধ করে রাখতে হয়েছিল। সেখানে স্বাস্থ্যশিবিরের চিকিৎসক এবং কর্মীদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়। অভিযোগ, সমস্ত খরচ বহন করতে হয়েছিল রিসর্ট কর্তৃপক্ষকেই। অভিষেক ছাড়াও তাঁর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তার ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর করেছে। শুক্রবারই বিধানসভায় সেবাশ্রয় দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলেছিলেন ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা। শনিবার তা নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ঘটনাচক্রে, তার আগে অভিষেকের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ প্রকাশ্যে এল।
অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত এবং বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ করেছেন রিসর্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগপত্রে দাবি, সেবাশ্রয় চলাকালীন ১১০ থেকে ১২০ জন চিকিৎসক এবং কর্মচারীর থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের বন্দোবস্ত করতে বাধ্য করা হয়েছিল তাঁদের। রিসর্টের সমস্ত ঘর অন্তত ৪০ দিনের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল। ভাড়া দিতে না-পারায় পর্যটনের মরসুমে কর্তৃপক্ষের বড়সড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। অভিযোগ, দিলীপ এবং সুমিত রিসর্টের মালিককে চাপ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া, স্থানীয় শিবির পরিচালনার জন্য বাড়তি অর্থও তাঁদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, টাকা না-দিলে রিসর্টে ভাঙচুর চালানো হবে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে। ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে অভিষেকের সেবাশ্রয় এবং সেবাশ্রয় ২-এর জন্য অন্তত ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, দাবি রিসর্ট কর্তৃপক্ষের।
আরও পড়ুন:
রিসর্টের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সমীরণ রায়। দাবি, অভিযুক্তেরা সকলেই ‘প্রভাবশালী’। তাই আতঙ্কে এত দিন তাঁরা কেউ মুখ খুলতে পারেননি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর সাহস পেয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে তোলাবাজি এবং দুর্নীতিদমন আইনের একাধিক ধারায় অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অভিষেকের বিরুদ্ধে বিবিধ অভিযোগে বিভিন্ন জায়গায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এত এফআইআর করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এ বিষয়ে তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণও করেন। কিন্তু সার্বিক ভাবে তাঁকে কোনও রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়, জানিয়েছে আদালত।