E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘সমুদ্রসাথীর’ উল্লেখ নেই বাজেটে, হতাশা

২০২৪ সালের রাজ্য বাজেটে তৎকালীন সরকার সমুদ্রসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল। প্রকল্প অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে মৎস্যজীবীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল।

সমরেশ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ০০:৫৪

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

মৎস্যজীবীদের জন্য সমুদ্রসাথী প্রকল্প নিয়ে নতুন সরকারের বাজেটে কোনও ঘোষণা থাকবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাজেটে প্রকল্পের উল্লেখ না থাকায় হতাশা ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীদের মধ্যে।

২০২৪ সালের রাজ্য বাজেটে তৎকালীন সরকার সমুদ্রসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল। প্রকল্প অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে মৎস্যজীবীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। তবে সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়নি। এ বার সরকার পরিবর্তনের পরে মৎস্যজীবীদের একাংশ আশা করেছিলেন, নতুন সরকার বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করবে। কিন্তু সদ্য পেশ হওয়া রাজ্য বাজেটে সমুদ্রসাথী নিয়ে কোনও ঘোষণা হয়নি।

প্রতি বছর এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। এই সময়ে কার্যত কর্মহীন হয়ে পড়েন হাজার হাজার মৎস্যজীবী। সংসার চালাতে অনেকেই ভিন্‌ রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যেতে বাধ্য হন। সমুদ্রসাথী প্রকল্পে ওই দু’মাসের জন্য মাথা পিছু মাসিক ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল।

কাকদ্বীপের মৎস্যজীবী সঞ্জয় দাস বলেন, “সমুদ্রে মাছ ধরার উপরে নিষেধাজ্ঞা থাকলে আমাদের হাতে কোনও কাজ থাকে না। সংসার চালাতে ধারদেনা করতে হয়। সমুদ্রসাথী প্রকল্প চালু হলে কিছুটা উপকার হত। নতুন সরকারের বাজেটে বিষয়টি না থাকায় আমরা হতাশ।” নামখানার মৎস্যজীবী আকাশ জানা বলেন, “নিষেধাজ্ঞার দু’মাস অনেক পরিবারকে চরম আর্থিক সঙ্কটে ফেলছে। তখন অনেকেই কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে চলে যেতে বাধ্য হন। সরকার মৎস্যজীবীদের সমস্যার কথা ভেবে দ্রুত কোনও সহায়তার ব্যবস্থা করুক।”

কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, “উপকূলবর্তী এলাকার লক্ষাধিক মৎস্যজীবী দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রসাথী প্রকল্পের অপেক্ষায় রয়েছেন। শুধু ঘোষণা করলেই হবে না, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুন সরকার মৎস্যজীবীদের জন্য আলাদা আর্থিক সুরক্ষা প্রকল্প চালু করবে বলে আমরা আশা করেছিলাম।”

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে কাকদ্বীপে এসে মৎস্যজীবীদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীরা পরিশ্রম করেও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। পাশাপাশি, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, মাছ সংরক্ষণের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন।

মৎস্যমন্ত্রী রাজেশ মাহাতো অবশ্য বলেন, “নতুন সরকার মৎস্যজীবীদের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাজেটে সরাসরি সমুদ্রসাথী প্রকল্পের উল্লেখ না থাকলেও মৎস্য পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং উপকূলবর্তী এলাকার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের স্বার্থরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Fisherman Budget

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy