অন্যের প্যান ও ভোটার কার্ডের ছবি বদলে জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ২৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়। প্রতারিত ব্যক্তি পরে বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৪ সালে বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে শুক্রবার রাতে হুগলির রিষড়া থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। শনিবার তাকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই চক্রে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। কী উদ্দেশ্যে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযোগকারী ও ধৃত ব্যক্তির পরিচয় জানাতে চায়নি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত ব্যক্তি ২০২২ সালে আয়কর সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। ‘এমবি ট্রেডকন ইন্ডিয়া’ নামে একটি সংস্থার নামে তাঁর পরিচয় ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই আয়কর সংক্রান্ত ফাইল তৈরি করা হয়েছে বলে তাঁর নজরে আসে। বিষয়টি জানার পরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে গিয়ে খোঁজ-খবর নেন। কী ভাবে তাঁর নামে ওই অ্যাকাউন্ট খোলা হল, তা জানতে চান।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারিত ব্যক্তি ব্যাঙ্কের রাজারহাট শাখায় গিয়ে বিস্তারিত জানান। তাঁর দাবি, ওই অ্যাকাউন্ট তিনি নিজে খোলেননি। তাঁর নাম ও প্যান নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ ওই অ্যাকাউন্ট খুলেছে বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি ব্যাঙ্ক ও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযোগকারীর পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতি ও অপব্যবহার করে একটি ব্যাঙ্কে ‘এমবি ট্রেডকন ইন্ডিয়া’-র নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, শুধু নাম বা প্যান নম্বর ব্যবহার করেই থেমে থাকেনি জালিয়াতেরা, অভিযোগকারীর প্যান কার্ড ও এপিক কার্ডে থাকা ছবিও পরিবর্তন বা বিকৃত করা হয়েছিল। পরিবর্তিত ছবি-সহ ওই পরিচয়পত্রগুলিই পরবর্তীতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে বৈধ কেওয়াইসি নথি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই বিপুল অঙ্কের অর্থের লেনদেনের পিছনে কালো টাকা সাদা করার বিষয় থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে এবং কার নির্দেশে ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে এত টাকা লেনদেন করা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অর্থের উৎস, কোথা থেকে টাকা এসেছিল এবং কোথায় সেই টাকা গিয়েছে, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বনগাঁর পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত বলেন, “ধৃতকে জেরা করে চক্রের বাকি সদস্যদের চিহ্নিত করে তাঁদের গ্রেফতার করা হবে।”