টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে ফের জলমগ্ন হয়ে পড়ল বসিরহাট পুরসভার একাধিক এলাকা। ৮, ১৪, ১৮ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড, ময়লাখোলা, ভ্যাবলা রেলগেট সংলগ্ন এলাকা, চাঁপাপুকুরের রাস্তা এবং পুরনো বাজার-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই একই চিত্র দেখা যায়। নিকাশি সংস্কারের অভাব ও নালা নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির জেরে শুক্রবার একাধিক এলাকায় রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কোথাও জল হাঁটুসমান, কোথাও আবার বাড়ির ভিতর পর্যন্ত জল ঢুকে গিয়েছে। বসিরহাট ময়লাখোলা, ভ্যাবলা রেলগেট সংলগ্ন ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘিরপাড় রোডের কাছে একাধিক বাড়িতে জল ঢোকার অভিযোগ উঠেছে। অনেক পরিবারকে বালতি, গামলা করে, কেউ কেউ আবার পাম্পের সাহায্যে জমা জল বের করার চেষ্টা করেছেন। চাঁপাপুকুরের রাস্তায় জল জমে রাস্তা ও খাল মিলেমিশে গিয়ছে। পুরনো বাজারে ইছামতীর ধারের হাটেও জল জমায় ব্যবসায়ীদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ বল বলেন, ‘‘বর্ষা এলেই রাস্তায় বেরোনোর উপায় থাকে না। নিকাশি নালাবহু বছর পরিষ্কারই হয় না। জমা জল ঠেলে পুরসভায় গিয়ে নিকাশি সাফাইয়ের দাবিতে আবারও দরখাস্ত দিলাম।’’ ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিপ্লব সরকারের অভিযোগ, ‘‘ঘরের মধ্যে জল ঢুকে গিয়েছে। কাঠের আসবাব নষ্ট হচ্ছে। রান্নাবান্নাও প্রায় বন্ধ। কী ভাবে জমা জল সরাব—সেই চিন্তাতেই রয়েছি।’’
বিজেপি নেতা দীপায়ন ভট্টাচার্যের অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার গাফিলতিতেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মানুষের সমস্যা সমাধানের বদলে নিজেদের পকেট ভরেছেন তাঁরা।’’ তৃণমূল বিধায়ক সুরজিৎ মিত্র বলেন, ‘‘পুরসভাকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’’ মহকুমাশাসক জসলিন কৌর বলেন, ‘‘জল জমার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। নিকাশি পরিষ্কারের কাজ আগেই শুরু হয়েছে। বাকি এলাকাগুলিতেও দ্রুত জল নামানোর কাজ চলছে।’’