মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপিত হচ্ছে রাজ্য জুড়ে। সেই আবহেই উত্তমকুমারের প্রিয় বসিরহাটের কাঁচাগোল্লা চিনি ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে সঙ্কটে। ব্যবসা টিঁকিয়ে রাখতে একদিকে বেড়েছে দাম, অন্য দিকে মিষ্টি তৈরি কমাতেও বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বসিরহাটের কাঁচাগোল্লা তথা মাখা সন্দেশের পরিচিত শুধু উত্তর ২৪ পরগনার নয়, রাজ্য জুড়েই। মহানায়ক উত্তমকুমার থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বা বর্তমানের প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়—চিত্রতারকাদের মুখেও এই মিষ্টির প্রশংসা শোনা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্দেশখালিতে ‘অমানুষ’ ছবির শুটিংয়ের সময়ে উত্তমকুমারের জন্য বসিরহাট থেকে সেটে নিয়ে যাওয়া হত এই কাঁচাগোল্লা। কয়েক বছর আগে টাকিতে শুটিং করতে এসেও প্রসেনজিৎ এই মিষ্টির খোঁজ করেছিলেন বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। সেই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির উৎপাদনেই কোপ পড়েছে মূল্যবৃদ্ধির জেরে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অনেকে জানালেন, প্রায় ৬০ বছর আগে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে আসা এক কারিগরের হাত ধরে বসিরহাটের একটি দোকানে এই মিষ্টির সূচনা। ক্রমশ বাড়ে জনপ্রিয়তা। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ১০ কেজি দুধের ছানার সঙ্গে প্রায় দেড় কেজি চিনি মিশিয়ে অল্প আঁচে কড়াইয়ে পাক দেওয়া হয়। শক্ত করে পাকানো নয়, নরম এবং সামান্য দানা দানা অবস্থাতেই নামাতে হয় কাঁচাগোল্লা।
বর্তমানে বেড়েছে চিনি ও ছানার দাম। সেই সঙ্গে বেড়েছে গ্যাসের দামও। কেজি প্রতি কাঁচাগোল্লার দাম ২০০-২৩০ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৩০০ টাকা হয়েছে। বড় দোকানে দৈনিক ৬০ কেজির বেশি উৎপাদন কমে প্রায় ৪০ কেজি, ছোট দোকানে ৩০ থেকে নেমে গড়ে ১০ কেজি হয়েছে। কোথাও আবার ৬০ কেজি থেকে ২০ কেজিতেও নেমেছে উৎপাদন!
বসিরহাটের একটি মিষ্টির দোকানের মালিক সুরজিৎ দে বলেন, ‘‘চিনি ও গ্যাসের দাম যে হারে বেড়েছে, মান বজায় রাখতে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছি। আগে ২২০-২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতাম, এখন তা ৩০০ টাকা। এ ছাড়া লাভের মুখ দেখা সম্ভব নয়। ক্রেতাদেরও দাম বৃদ্ধির কারণ বোঝাতে হচ্ছে। চিনির দাম কমলে উৎপাদন বাড়বে।’’ আর একটি মিষ্টির দোকানের কর্ণধার তাপস মণ্ডলের দাবি, ‘‘মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা কাঁচাগোল্লাকে জিআই ট্যাগ দেওয়ার কথা আগের সরকারের কাছে জানিয়েছিল। তা হয়নি। কাঁচাগোল্লা শুধু বসিরহাট নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সমাদৃত।’’ তাঁর আক্ষেপ, ‘‘দাম বাড়ায় ক্রেতাও কমছে।’’
স্থানীয় বাসিন্দা পার্থ দাস বলেন, ‘‘বসিরহাটে দু’ধরনের কাঁচাগোল্লা পাওয়া যায়—কম মিষ্টি ও বেশি মিষ্টি। দু’টির স্বাদই অতুলনীয়। কিন্তু দামটা দিন দিন সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।’’