সুন্দরবনের সমুদ্রতীরের কাছেও বাঘের ডেরা!
চলতি বছরের গোড়ায় বাঘসুমারির শেষে জঙ্গলে বসানো স্বয়ংক্রিয় ‘ট্র্যাপ ক্যামেরা’র ছবি বিশ্লেষণ করে বনকর্তারা দাবি করছেন, শুধু সুন্দরবনের উত্তর বা পশ্চিম অংশেই নয়, বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী দক্ষিণ প্রান্তেও বাঘের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। বন দফতরের মতে, এটি সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র এবং বাঘ সংরক্ষণ কর্মসূচির জন্য ইতিবাচক বার্তা। বনকর্তারা আগেই দাবি করেছিলেন, সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে।
সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের এক কর্তা বলেন, ‘‘সুন্দরবনে বাঘেদের চারণভূমি আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। যেখানে সুন্দরবনের দক্ষিণ প্রান্তে ২০২২-এর বাঘসুমারিতে বাঘেদের উপস্থিতি একেবারেই দেখা যায়নি, সেখানে এ বারের গণনায় তা লক্ষ্য করা গিয়েছে। সংখ্যাবৃদ্ধির পাশাপাশি বাঘেরা যে নিজেদের নতুন থাকার জায়গাও খুঁজে নিতে শুরু করেছে এটা তারই প্রমাণ।’’
চার বছর অন্তর দেশ জুড়ে বাঘ গণনা হয়। আগের বাঘসুমারি অনুযায়ী, সুন্দরবনে অন্তত ১০১টি বাঘ রয়েছে বলে দাবি করেছিল বন দফতর। এ বার গত ডিসেম্বর থেকে প্রায় দেড় মাস ধরে গোটা দেশের সঙ্গে সুন্দরবনেও বাঘ গণনা চলে স্বয়ংক্রিয় ‘ট্র্যাপ ক্যামেরা’র মাধ্যমে। বনকর্তাদের দাবি, সেই ক্যামেরায় সুন্দরবনের বিভিন্ন রেঞ্জে অন্তত ১০-১২টি পূর্ণবয়স্ক বাঘিনি এবং তাদের সঙ্গে একাধিক শাবকের ছবি ধরা পড়েছে। বাঘের গায়ের ডোরাকাটা দাগই একটির থেকে আরেকটিকে আলাদা করে। যা প্রমাণ করেছে তাদের সংখ্যাবৃদ্ধি। একসইসঙ্গে দক্ষিণের উপকূলবর্তী এলাকায় বাঘের উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে তারা নতুন অঞ্চলেও স্বাভাবিক ভাবে বিচরণ করছে।
সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যাবৃদ্ধির চেয়েও বনকর্তাদের কাছে বেশি খুশির খবর, সুন্দরবনে বাঘের চারণভূমি বিস্তৃত হওয়ায়। তাঁরা জানান, আগের সুমারিতে সজনেখালি ও বসিরহাট রেঞ্জ মিলিয়ে সুন্দরবনের উত্তর ও পশ্চিম দিকেই মূলত বাঘের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এ বার বাঘের উপস্থিতি মিলল সুন্দরবনের দক্ষিণেও। পাশাপাশি, সুন্দরবনে বাঘের ঘনত্ব আগের তুলনায় বেড়েছে বলেও দাবি করছেন বনকর্তারা।
বনকর্তাদের মতে, যেখানে বাঘিনি ও শাবকের উপস্থিতি রয়েছে, সেখানে ওই এলাকার পরিবেশ সুস্থ এবং প্রজনন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে বলেই ধরে নেওয়া হয়। বাঘ সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা জয়দীপ কুন্ডু মনে করেন, ‘‘পর্যাপ্ত খাদ্য, নিরাপদ আবাসস্থল এবং বন সংরক্ষণের ফলে বাঘের বিচরণক্ষেত্রও বিস্তৃত হচ্ছে।’’
বন দফতরের আশা, চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হলে সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণের সাফল্যের আরও স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে। সারা দেশের বাঘের সংখ্যার সঙ্গে সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যাও একসঙ্গে প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রক।