Advertisement
E-Paper

‘ঝুঁকেগা নেহি’ বলা জাহাঙ্গির মাথা নত করেছিলেন আগেই, এ বার কাটমানি ফেরালেন সেই ‘পুষ্পা’-ঘনিষ্ঠ নেতা

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনহোগলা ও সংলগ্ন অঞ্চল থেকে আবাস যোজনা, আমফানের ক্ষতিপূরণ-সহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি ও তোলাবাজি আদায় করতেন গুরুপদ ও তাঁর ঘনিষ্ঠেরা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ২৩:২৮
ফেরানো হল ঘুষের টাকা।

ফেরানো হল ঘুষের টাকা। — নিজস্ব চিত্র।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার ‘ঝুঁকেগা নেহি’ বলা তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের ঠিকানা আপাতত সংশোধনাগার। তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসাবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন বেলসিংহা-২ অঞ্চলের বনহোগলা গ্রামের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি গুরুপদ মণ্ডল। আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে তাঁকে কাটমানি দিতে হত বলে অভিযোগ। বর্তমানে গুরুপদ পলাতক। শনিবার পঞ্চায়েত প্রধানের উপস্থিতিতে স্ত্রী ও দুই অনুগামীর হাত দিয়ে গ্রামবাসীদের থেকে নেওয়া প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকার কাটমানি ফেরালেন গুরুপদ-সহ তৃণমূলের বেশ কয়েক জন স্থানীয় নেতা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনহোগলা ও সংলগ্ন অঞ্চল থেকে আবাস যোজনা, আমফানের ক্ষতিপূরণ-সহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি ও তোলাবাজি আদায় করতেন গুরুপদ ও তাঁর ঘনিষ্ঠেরা। গ্রামবাসীদের দাবি, শুধুমাত্র ১৮৩ নম্বর বুথ থেকেই ২৫ লক্ষ টাকার বেশি কাটমানি তুলেছিলেন গুরুপদ ও তাঁর বাহিনী। আরও অভিযোগ, আবাস যোজনার সরকারি সহায়তার জন্য ২০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়া হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পরে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।

শনিবার গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কাকলি মালীর উপস্থিতিতে বেশ কয়েক জন স্থানীয় নেতা ও পলাতক গুরুপদ তাঁর স্ত্রী সুচিত্রা ও দুই ঘনিষ্ঠ সহদেব মালিক ও দীপঙ্কর মালিকের উপস্থিতিতে গ্রামবাসীদের থেকে আদায় করা প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা ফিরিয়ে দেন।

এই প্রসঙ্গে বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা বলেন, ‘‘বর্তমানে আইনের শাসন চলছে। গ্রামবাসীদের চাপে গরিবের টাকা ফেরাতে বাধ্য হয়েছেন গুরুপদ-সহ বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘গরিবের থেকে লুট করা টাকা তাঁদের বুঝিয়ে দিতে হবে। তাঁরা মনে করলে গ্রামে থাকতে দেবে। এই বিষয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও যোগ নেই।’’ বিধায়কের বার্তা, দুর্নীতি রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চায়েত প্রধান কাকলির দাবি, যাঁরা টাকা তুলেছিলেন তাঁরা মোট আট লক্ষ ৪২ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে চার লক্ষ টাকা ফিরিয়েছেন গুরুপদের স্ত্রী। কাকলির দাবি, টাকা তোলার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। জানতে পারার পরেই টাকা ফেরানোর জন্য পদক্ষেপ করেন তিনি।

টাকা ফিরে পেয়ে গ্রামবাসী চন্দনা মণ্ডল ও চণ্ডী মালী জানান, তাঁরা টাকা ফিরে পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত গুরুপদকে গ্রেফতার করা হোক।

bribes Awas Yojana

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy