একই অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন স্বামী নিখিলরঞ্জন বিশ্বাস। এ বার চাকরি দেওয়ার নাম করে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধানও। উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের চারঘাট পঞ্চায়েতের ঘটনা। ওই দু’জনের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন ‘প্রতারিত’ ব্যক্তিরা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ধৃতের নাম বাসন্তী বিশ্বাস। রাজ্যে সরকার বদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ দায়ের হয় থানায়। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তোলাবাজি এবং আর্থিক প্রতারণার। অভিযোগ, তৃণমূল আমলে স্বরূপনগরের বাসিন্দা জনৈক মাজার আলি-সহ বেশ কয়েক জনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছিলেন তৎকালীন পঞ্চায়েত প্রধান বাসন্তী এবং তাঁর স্বামী নিখিল। বদলে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৩ সালে কয়েক লক্ষ করে টাকা দিয়েছিলেন। তার পর চাকরি হয়নি। টাকা ফেরত চেয়েও পাননি। বরং টাকা ফেরত চাইলে বিশ্বাস দম্পতি তাঁদের হুমকি দিয়েছেন। তাঁদের আরও দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগেও অভিযোগ করেছেন। কিন্তু নিজেদের দল ক্ষমতায় থাকায় বাসন্তীরা পার পেয়ে যান।
আরও পড়ুন:
সরকার বদলের পরে অভিযোগকারী মাজার-সহ বেশ কয়েক জন বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরবারে যান। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কাছে পুরো বিষয়টি শুনে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। ঘটনাক্রমে গত ১২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার হন নিখিল। তিনি এখনও জেলা হেফাজতে। সোমবার গ্রেফতার হলেন তাঁর স্ত্রী বাসন্তী। সোমবারই তাঁকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে হাজির করানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
বাসন্তীর গ্রেফতারির পর অভিযোগকারী মাজারের মন্তব্য, ‘‘আইসিডিএস কর্মী ছিলেন উনি। তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান হওয়ার পর কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। চাকরি দেওয়ার নাম করে বেকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন। এঁরা যেন প্রাপ্য শাস্তি পান। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। এঁদের সঙ্গে এই প্রতারণাচক্রে আরও কয়েক জন জড়িত। আশা রাখি, তাঁরাও তাড়াতাড়ি গ্রেফতার হবেন।’’ ওই এলাকার বিজেপি নেতা বৃন্দাবন সরকারের মন্তব্য, ‘‘তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান বাসন্তী বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পর এলাকাবাসীর কাছে একটি বিষয় পরিষ্কার— এই সরকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। দুর্নীতি আগে হোক বা এখন, দোষীদের শাস্তি পেতেই হবে।’’