শাসন থানার অন্তর্গত গোলাবাড়ি এলাকায় টাকি রোডের ধারে পুকুর থেকে এক টোটোচালক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম সঞ্জিত দাস (২৯)। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কোপানোর পর তাঁকে রাস্তার ধারে একটি পুকুরে ফেলে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয় সঞ্জিতের। সেই সময় তিনি বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। এর পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। সঞ্জিতের বাড়ি কাজীপাড়া, নেতাজিনগর, এক নম্বর রেলগেট সংলগ্ন এলাকায়। রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে বারাসত থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়। শুরু হয় আত্মীয়স্বজনের বাড়িতেও খোঁজ।
পুলিশ সূত্রে খবর, সঞ্জিতের মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে গোলাবাড়ি পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন এলাকার সন্ধান মেলে। এর পর দেগঙ্গার এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান এবং শাসন থানার আইসি মহম্মদ আসিফ সানি-সহ বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। সেখানে টাকি রোডের ধারে একটি পুকুরে সঞ্জিতের মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে দাবি, মৃতের গোটা শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে উদ্ধার হয় সঞ্জিতের টোটো, যে জায়গা দত্তপুকুর থানার অন্তর্গত। টোটোর ভিতরে রক্তের দাগও পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে টোটোর মধ্যেই তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
সঞ্জিতের দাদা তপন দাসের দাবি, তাঁর ভাই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক কারণেই তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবারের। যদিও খুনের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। তপন দাসের দাবি, “আমার ভাইয়ের খুনিদের ফাঁসি চাই।”
মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শাসন থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে মৃতের পরিবার। বারাসত থানা-সহ দত্তপুকুর ও শাসন থানার পুলিশ যৌথ ভাবে তদন্ত করছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।