বারাসতে জাতীয় সড়কে টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে টোটোচালকদের জন্য বিকল্প কোনও পথ নির্ধারিত নেই। এই অবস্থায় রাস্তায় টোটো নামালেই চালকদের ধরপাকড় করা হচ্ছে। আটক করা হচ্ছে টোটো। বুধবার তারই প্রতিবাদে নেমেছিলেন টোটোচালকেরা। পাল্টা হেনস্থার অভিযোগ উঠল টোটোচালকদের একাংশের বিরুদ্ধেই। অভিযোগ, যাত্রী থাকা অবস্থায় ভ্যানের চাকার হাওয়া খুলে নেওয়া হয়েছে।
বিকল্প রাস্তার দাবিতে ও পুলিশি ধরপাকড়ের ট্রতিবাদে বারাসতের বিভিন্ন রুটে বুধবার টোটো পরিষেবা বন্ধ রেখেছিলেন চালকেরা। সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে বারাসত-টাকি রোডের শতদল ময়দানে জমায়েত করে বিক্ষোভও দেখান তাঁরা। তবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ভ্যানচালক ও যাত্রীদের হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। পূর্ণিমা ঘোষ নামে এক যাত্রীর অভিযোগ, ‘‘যাতে ভ্যানে করে গন্তব্যে যেতে না পারি, তার জন্য চাকার হাওয়া খুলে নেওয়া হয়েছে।’’ নবপল্লী এলাকায় যাত্রী থাকা অবস্থায় ভ্যানের চাকার হাওয়া খুলে নেওয়ার অভিযোগ টোটোচালকদের একাংশের বিরুদ্ধে।
ভ্যানের চাকার হাওয়া খুলে নেওয়ার অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের একাংশের বিরুদ্ধে। — নিজস্ব চিত্র।
বিক্ষোভকারীদের তরফে টোটোচালক রাজা দত্তের অভিযোগ, জাতীয় সড়কে টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর থেকে রাস্তায় নামতেই একের পর এক টোটো আটক করা হচ্ছে। এর ফলে বহু চালকের রুজি-রোজগার কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তিনি জানান, যদি জাতীয় বা রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে প্রশাসনের উচিত বিকল্প ও নিয়মমাফিক চলাচলের পথ নির্ধারণ করে দেওয়া। প্রশাসন হঠাৎ করে সিদ্ধান্তে নেওয়ায় আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন চালকেরা। বিক্ষোভকারীদের আবেদন, ধরপাকড়ের ক্ষেত্রে মানবিক হতে হবে পুলিশকে।
আরও পড়ুন:
গোটা দিন টোটো পরিষেবা বন্ধ থাকার কারণে সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, নিজেদের দাবি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে প্রশাসন ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে বলেও আশাবাদী বিক্ষোভকারীরা।