এক সময়ে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্তই সুন্দরবনের পর্যটন মরসুম বলে ধরা হত। এখন সেই ছবি বদলেছে। শীতের পাশাপাশি বর্ষাতেও দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। প্রায় সারা বছরই হোটেল, লজ ও রিসর্টে বুকিং থাকে। তবে পর্যটক সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ পর্যটন ব্যবসায়ীদের।
তাঁদের দাবি, পূর্বতন সরকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে একাধিক ঘোষণা করলেও সুন্দরবনে তার বাস্তব প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যটন ফের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
বর্তমানে সুন্দরবন ভ্রমণ মূলত সজনেখালি, সুধন্যখালি, দোবাঁকি, পাখিরালয় ও বুড়ির ডাবরিকে কেন্দ্র করেই সীমাবদ্ধ। ব্যবসায়ীদের মতে, পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে আরও নতুন পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, অধিকাংশ পর্যটনকেন্দ্রে পর্যাপ্ত জেটি নেই। যেগুলি রয়েছে, তার অনেকগুলিই জীর্ণ। এতে পর্যটকদের ওঠানামায় সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।
সমস্যা রয়েছে বন দফতরের অনুমতি ব্যবস্থা নিয়েও। অভিযোগ, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক (১২০টি) জলযানকেই জঙ্গলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে শীতের মরসুম বা ইলিশ উৎসবের সময়ে পর্যটকের চাপ বাড়লে বহু পর্যটক অনুমতি পান না। অনুমতি ছাড়া জঙ্গলে প্রবেশ করলে জরিমানার পাশাপাশি জলযান বাজেয়াপ্ত হওয়ারও বিধান রয়েছে। গাইড নিয়োগ নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশের। তাঁদের অভিযোগ, অনলাইনে বুকিং হওয়া গাইডরা অনেক সময়ে নির্ধারিত জলযানে না গিয়ে নিজেদের পছন্দমতো লঞ্চে ওঠেন।
সুন্দরবনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও বেশি করে তুলে ধরতে সরকারি প্রচারেরও অভাব রয়েছে বলে তাঁদের দাবি। পর্যটক হেনস্থার অভিযোগে দোষী ট্যুর অপারেটরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
পর্যটন ব্যবসায়ী সমীর রায়, নিরুপম সরকার বলেন, “সুন্দরবনে আরও নতুন পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া প্রয়োজন। তাতে পর্যটকেরা প্রকৃতির পাশাপাশি আরও বেশি বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ পাবেন।” সুন্দরবন পিউপিল ওয়াটার সোসাইটির সদস্য উপানন্দ্য বৈদ্য বলেন, “বেশিরভাগ পর্যটনকেন্দ্রের জেটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। সোনাখালিতে জেটি তৈরি হলেও এখনও তা পর্যটকদের জন্য চালু হয়নি। পাখিরালয়, সুধন্যখালি ও দোবাঁকিতেও পর্যাপ্ত জেটির অভাব রয়েছে।”
তবে পরিস্থিতির উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। রবিবার রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “সুন্দরবনের পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের জীবিকা উন্নয়নের কথা মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বলেছেন। সেই লক্ষ্যেই পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। ব্লু কার্বন অর্থনীতির বিকাশও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আগামী দিনে সুন্দরবনের পর্যটনের আরও উন্নয়ন হবে।”