সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় প্রকল্প নিয়ে আবার অভিযোগ উঠল। সোমবার অভিষেক-সহ তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় পারুলিয়া কোস্টাল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে অভিষেক-সহ তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী অভিজিৎ দাস (ববি)। অভিযোগে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ ওষুধগুলি কেন এবং কী উদ্দেশ্যে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা বা নষ্ট করা হল, তা নিয়ে একটি গভীর ও নিরপেক্ষ ফৌজদারি তদন্ত প্রয়োজন। ওষুধগুলির উৎস, সরকারি বা বেসরকারি ক্রয়প্রক্রিয়া, অবৈধ স্থানান্তর, হেফাজত এবং আর্থিক লেনদেনের পিছনে বড়সড় অনিয়ম, আত্মসাৎ ও দুর্নীতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় অভিষেক ছাড়াও তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, অয়ন ঘোষ দস্তিদারের মতো মূল পরিচালনা সমন্বয়কারী এবং ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক জাহাঙ্গীর খান, মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক মহম্মদ শামিম আহমেদ মোল্লা, গৌতম অধিকারী ও মহেবাবুর গায়েনের মতো স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিজিৎ।
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অন্তর্গত পারুলিয়া কোস্টাল থানার হিঞ্চেবেড়িয়া গ্রামে মাটির নীচ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার হয়। মাটির গভীরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ জীবনদায়ী ওষুধের প্যাকেট সরাতে শেষ পর্যন্ত জেসিবি বা ‘আর্থ-মুভিং মেশিন’ ব্যবহার করতে হয়। উদ্ধার হওয়া এই ওষুধগুলির প্যাকেটে ডায়মন্ড হারবার এলাকার বহুল প্রচারিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য কর্মসূচির চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি।
ঘটনাচক্রে, বিষ্ণুপুর থানায়ও সেবাশ্রয় এবং জমি দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন এই বিজেপি নেতা। এমনকি সেবাশ্রয়ের নামে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ জানিয়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে ইডি-কেও চিঠি দিয়েছেন তিনি।