Advertisement
E-Paper

বারুইপুরে গণপিটুনি কাণ্ডে ধৃতের সংখ্যা বেড়ে আট! কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়েছিলেন। গণপিটুনিতে যুবককে হত্যার ঘটনায় কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই পুলিশের তদন্ত এবং ধরপাকড় আরও জোরালো হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১২:২৩
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বারুইপুরে গণপিটুনির ঘ়টনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম সাকিম লস্কর ওরফে ‘কেলে’। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সূর্যপুর এলাকা থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার ধৃতকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। এখনও পর্যন্ত বারুইপুরে গণপিটুনির ঘটনায় আট জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতকে আদালতে হাজির করানোর পর তদন্তের স্বার্থে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবেন তদন্তকারী আধিকারিক। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বারুইপুরে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আগামী দিনে গ্রেফতারির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও পুলিশের অনুমান।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে গিয়েছিলেন। গণপিটুনিতে যুবককে হত্যার ঘটনায় কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই পুলিশের তদন্ত এবং ধরপাকড় আরও জোরালো হয়।

গণপিটুনিতে নিহত যুবক নির্দোষ ছিলেন, আগেই জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। শনিবার ইন্দ্রজিতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ২৫ লক্ষ টাকার চেক। এ ছাড়া, যুবকের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। যাঁরা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, এর পিছনে তাঁদের উস্কানি রয়েছে। ভিডিয়োয় যত জনের ছবি দেখা গিয়েছে, সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকখালি, দিঘা থেকেও অভিযুক্তদের ধরে এনেছে পুলিশ।’’ ইন্দ্রজিতের পরিবারের দায়িত্ব সরকার নিয়েছে, জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বাড়িও প্রশাসনের উদ্যোগে মেরামত করে দেওয়া হয়েছে।

গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে গণধর্ষণ এবং খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সে দিন নাবালিকার দেহ ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হয় এলাকায়। রেল অবরোধও করা হয়েছিল। অভিযোগ, সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎকে গণধোলাই দেওয়া হয়। তাঁর পরিবারের দাবি, ঘর থেকে ঘুমন্ত যুবককে মারতে মারতে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

গণপিটুনি কাণ্ডে প্রথমে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই পাঁচ জনই আদালতের নির্দেশে আপাতত পুলিশি হেফাজতে। শুভেন্দু বারুইপুর থেকে ঘুরে আসার পর শনিবার আরও দু’জন ধরা পড়েন। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ধৃতেরা হলেন, ফারুক সর্দার, রাজেশ সর্দার, শরিফুল মল্লিক, সাবিউদ্দীন বৈদ্য, ফরিদ শেখ, আবু সিদ্দিক সর্দার এবং শামিম আলি খান। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী বেআইনি জমায়েত, অশান্তি বাধানো, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া, ইচ্ছাকৃত ভাবে জনসাধারণকে আঘাত এবং গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যার মামলা রুজু করা হয়েছে।

Baruipur Mob Lynching Rape and Murder Suvendu Adhikari

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy