E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

রাতে একাধিক দোকানে লুট, ক্ষোভ মেমারিতে

বুধবার গভীর রাতে মেমারি শহরের ভিতর স্টেশন রোডে দু’টি মদের দোকান, একটি মনোহারী দোকান ও একটি ফলের দোকানে লুটপাট চালায় পাঁচ জনের একটি দুষ্কৃতী দল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫৫
মেমারিতে চুরি।

মেমারিতে চুরি। নিজস্ব চিত্র।

প্রথমে ক্যাশবাক্স ভেঙে টাকা লুট। তারপরে আলমারির তাকে থাকা দামী, দামী মদ নিয়ে চম্পট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেমারিতে। রাস্তার ধারে ফলের দোকান থেকে খেজুর, কাজু, কিসমিসও চুরি করে দুষ্কৃতীরা।

বুধবার গভীর রাতে মেমারি শহরের ভিতর স্টেশন রোডে দু’টি মদের দোকান, একটি মনোহারী দোকান ও একটি ফলের দোকানে লুটপাট চালায় পাঁচ জনের একটি দুষ্কৃতী দল। পুলিশ জানিয়েছে, রাত দু’টো থেকে প্রায় ঘণ্টাখানেক লুটপাট চলে। তারপরে দুষ্কৃতীরা একটি পুকুর পাড়ে বসে মদ্যপান করে। ওই পুকুর পাড় থেকে মদের বোতল, কাজু-কিসমিসের প্লাস্টিকের পাত্র উদ্ধার হয়েছে। জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, “এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের দল ছিল বলে জানা যাচ্ছে। সম্ভবত হেঁটেই দুষ্কৃতীরা এসেছিল। স্টেশনের দিক থেকে এসে চারশো মিটারের মধ্যে সব দোকানে চুরি করে বামুনপাড়ার দিক দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।”

এ মাসেই মেমারিতে তিনটে চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। গত ৭ অক্টোবর মেমারির জাবুইতে সেচ প্রকল্পের সামগ্রী চুরির ঘটনায় পুলিশ দু’জনকে গ্রেফতার করে। তার তিন দিন পরে নুদিপুরে একটি দোকানে চুরি হয়। তারপরে এই ঘটনা। একের পর এক চুরিতে শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন ব্যবসায়ীরাও। তাঁদের দাবি, বামুনপাড়া থেকে স্টেশন রোডই মূলত শহরের ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র। পুলিশের টহল না থাকাতেই দীর্ঘ সময় ধরে শাটার, কোলাপসিবল গেট ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের দাবি। মেমারি ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক রামকৃষ্ণ হাজরা বলেন, “টুকটাক চুরির ঘটনা আগেও ঘটেছে। কিন্তু এ ভাবে দীর্ঘ সময় নিয়ে মূল রাস্তার উপরে পরপর দোকানে চুরি মেমারিতে ঘটেছে কি না জানা নেই। ব্যবসাদারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।”

স্টেশন রোডের ওই মদের দোকানের মালিক কিশোর সাধুখাঁ বলেন, “দোকানের পিছনের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকেছিল দুষ্কৃতীরা। ক্যাশবাক্স ভেঙে লক্ষাধিক টাকা ও আলমারিতে রাখা মদের বোতল নিয়ে গিয়েছে।’’ আর একটি মদের দোকানের ম্যানেজার সৌম্যনীল বসুর দাবি, তাঁর দোকান থেকে কয়েক লক্ষ টাকা ও মদের বোতল চুরি করেছে দুষ্কৃতীরা। ফলের দোকানের মালিক শম্ভু সাউয়ের দাবি, তাঁর দোকান থেকে খেজুর, কিসমিস ভর্তি প্লাস্টিকের পাত্র চুরি গিয়েছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, আগে রাস্তায় ঘুরে পাহারা দেওয়ার লোক ছিল। সেই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। বুধবারের ঘটনার পরে ফের পাহারাদারদের প্রয়োজন হতে পারে। থানার সঙ্গেও এ নিয়েও আলোচনা করা হবে বলে ব্যবসায়ী সমিতি জানিয়েছে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, রেইকি করে তবেই লুটপাট চালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। কারণ, সিসি ক্যামেরার মুখ ঘোরানো, সিসি ক্যামেরার কাছে মাথা-মুখ ঢেকে চলাফেরার ঘটনা দেখা গিয়েছে। সব ফুটেজ পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Memari

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy