৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার হাই কোর্ট বলেছিল, প্রশান্ত বর্মনকে পরের ৪৮ ঘণ্টা, অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হবে। সময় বেঁধে দিয়েছিল বিকেল সাড়ে ৩টে। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টে পেরিয়ে গেলেও স্বর্ণ ব্যবসায়ীর খুনে অভিযুক্ত প্রশান্ত আত্মসমর্পণ করেননি। উল্টে হাই কোর্টের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে অপসারিত বিডিও মামলা দায়ের করেছেন। আগামী সপ্তাহে শুনানির সম্ভাবনা।
কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের বেঞ্চ বলেছিল, আত্মসমর্পণ না-করলে তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। অবিলম্বে রাজ্যকে তাঁর বেতন বন্ধ করারও নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। মামলাকারী জানিয়েছেন, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া দীর্ঘ। এই মামলার শুনানি আগামী ১৪ ডিসেম্বর। ওই দিন যদি দেখা যায়, আদালতের নির্দেশ মতো কাজ হয়নি, তা হলে অবমাননার মামলা হবে। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন প্রসূন। সেই মামলাকারীর কথায়, ‘‘অত্যন্ত আশ্চর্যকর যে, পুলিশ প্রশান্তকে গ্রেফতার করতে পারছে না। মাস কয়েক আগে মদ্যপান করে গাড়িচালানোর মামলায় গ্রেফতার করার পরেও পুরনো (খুনের) মামলায় শোন অ্যারেস্ট হয়নি। প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।’’
রাজ্যকে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার নির্দেশ দিয়েছিল, ৪৮ ঘণ্টা পার হলেই প্রশান্তের সম্পত্তির তালিকা তৈরি করতে হবে। রাজ্যের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, “বেতন বন্ধ করুন। কেন এত দিন পালিয়ে আছেন? সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছেন না কেন? একজন সরকারি আধিকারিক এত দিন ধরে পালিয়ে আছেন? সুপ্রিম কোর্টকেই পাত্তা দিচ্ছেন না, হাই কোর্টকে কী দেবেন? সুপ্রিম কোর্টের প্রতি কোনও সম্মান নেই।” কিন্তু তার পরেও প্রশান্ত ধরা দেননি। উল্টে মামলা করেছেন সুপ্রিম কোর্টে।
গত বছর বিধাননগরের দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার অপহরণ এবং খুনে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়ায় রাজগঞ্জের তৎকালীন বিডিও প্রশান্তের। সেই থেকে বেপাত্তা প্রশান্ত। জুলাই মাসে খুনের তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। তবে প্রশান্তের খোঁজ মেলেনি। কিন্তু অভিযোগ, তিনি বেতন নিচ্ছেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিআইডি-কে ভর্ৎসনা করেছিলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। ধমক দিয়েছিলেন রাজ্যকেও। বিচারপতির মন্তব্য ছিল, ‘‘বিডিওর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা রয়েছে, অথচ সিআইডি বলছে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের হুঁশ নেই কেন?’’
আরও পড়ুন:
-
ধরা পড়েও ফেরার! সেই প্রশান্ত বর্মনের নাগাল পাচ্ছে না পুলিশ, অথচ সরকারি কোষাগার থেকে বেতন পেয়ে যাচ্ছেন প্রতি মাসে
-
ফেরার হয়েও বেতন পাচ্ছেন প্রশান্ত বর্মন! বন্ধ করার নির্দেশ রাজ্যকে, ধরা না দিলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে, বলল হাই কোর্ট
-
ভোটার নন, রেজিনগরের ‘বুথে বুথে ঘুরে ছাপ্পা’ দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী! কমিশনের কাছে কংগ্রেস, কী বললেন শাখারভ
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউ টাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপনের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ওই খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত প্রশান্ত। বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন তিনি। তার বিরোধিতা করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় বিধাননগর পুলিশ। হাই কোর্ট সেই আগাম জামিনের নির্দেশ খারিজ করে তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশের পরেও পুলিশের নাগালের বাইরেই ছিলেন তিনি।
গত ২৫ মে পথসুরক্ষা বিধি ভেঙে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন প্রশান্ত। অভিযোগ, রাতে নিউ টাউনের ইকো পার্ক থানা এলাকায় আচমকা প্রশান্তের গাড়ি এক পথচারীকে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রশান্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন তাঁকে বারাসত আদালতে হাজির করানো হয়। যখন প্রশান্তকে হাজির করানো হয়, তখন বিচারক নথি চান। ২৬ মে সন্ধ্যা পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট অপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু খুন সংক্রান্ত নথি না-পৌঁছোনোয় জামিন পেয়ে বাড়ি চলে যান প্রশান্ত। তার পর থেকে আবার তাঁর খোঁজ নেই। অভিযোগ, সরকারি চাকরির বেতন তিনি পাচ্ছেন। মঙ্গলবার সেই বেতন বন্ধ করার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, ৪৮ ঘণ্টা পার হলেই প্রশান্তের সম্পত্তির তালিকা তৈরি করতে হবে। বাজেয়াপ্ত করতে হবে সম্পত্তি। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন প্রশান্ত।