সাংসদ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশিকা আছে কি? মহুয়া মৈত্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলা শুনতে গিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে বুধবার তা স্পষ্ট করে জানতে চাইল কলকাতা হাই কোর্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে এ বিষয়ে বিশদে জানাতে হবে আদালতে। আগামী ১৪ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছে দাবি করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া। তাঁকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা ডিম ছুড়ে হেনস্থা করছে বলে অভিযোগ। কৃষ্ণনগরের সাংসদকে তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কিন্তু মহুয়ার আইনজীবী অর্ক নাগের দাবি, ইয়োলো বুক নামের একটি সরকারি নথি রয়েছে। সেখানে সাংসদদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। সাংসদ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতেই তাঁর মক্কেলের নিরাপত্তা প্রাপ্য, দাবি অর্কের। তিনি আদালতে জানান, কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় ডিম ছোড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। গোটা রাজ্য থেকে নিরাপত্তা কোনও ভাবেই প্রত্যাহার করা যায় না। মহুয়ার আবেদন, তাঁর নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
আরও পড়ুন:
কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে বুধবার মহুয়ার মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি জানান, সাংসদদের নিরাপত্তা পাওয়ার বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট নির্দেশিকা আছে কি না, সাংসদ বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তার জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে কি না, রাজ্যকে তা জানাতে হবে। এই সংক্রান্ত নিয়ম জানানোর জন্য আদালতের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নেন রাজ্যের আইনজীবী তথা অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। আদালত তাঁকে সাত দিন সময় দিয়েছে।
রাজ্যের তরফে জানানো হয়, ডিম ছোড়া নিয়ে হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাই মহুয়ার মামলাটির শুনানিও সেখানেই হওয়া উচিত। কিন্তু আদালত জানিয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি আগে তারা জানতে চায়। তার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।