Advertisement
E-Paper

মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বহাল, হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট, রাজ্যকে ফের কলকাতা হাই কোর্টে যাওয়ার নির্দেশ

২০০৭ সালের পুরনো মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। কলকাতা হাই কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে তিন সপ্তাহের জন্য।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৫১
নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের মামলায় হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট।

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের মামলায় হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ করেনি। রাজ্য সরকারকে হাই কোর্টেই ফিরে যেতে বলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, উপনির্বাচন প্রক্রিয়ার পর ২১ অক্টোবর মিলনকে হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এই অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে মিলন যদি ফের কোনও আবেদন করেন, তার বিরুদ্ধে সরকার লড়তে পারবে।

নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর কংগ্রেসের মিলনকে সমর্থন জানায় কালীঘাট তৃণমূল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। কংগ্রেসের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই গ্রেফতারি। মিলন জামিন চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত তাঁকে ছ’টি মামলায় তিন সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছে। বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মিলনকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। হাই কোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল।

শীর্ষ আদালতে রাজ্যের আইনজীবী তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার যুক্তি ছিল, মিলনকে কেন আর পাঁচ জন সাধারণ অভিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে না? নির্বাচনে লড়ছেন বলে তিনি কেন বাড়তি সুবিধা পাবেন? তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তাতে অন্য যে কেউ থাকলে জামিন পেতেন না। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানিয়েছে, মামলার গুণাগুণ (মেরিট) নিয়ে তারা কোনও মন্তব্য করবে না। যদি মিলন জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে চান, সে ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সামনে সব বক্তব্য ও যুক্তি উপস্থাপনের পথ খোলা থাকবে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন। তাই সেখানে উপনির্বাচন করাতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। ওই কেন্দ্রে শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। মঙ্গলবার উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। ভোটগণনা হবে শুক্রবার, ৯ অক্টোবর।

সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ না করায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী ‘নৈতিক জয়’ দেখছেন। তাঁর কথায়, ‘‘সমস্ত শক্তি কাজে লাগিয়েও মিলন প্রধানের গণতান্ত্রিক অধিকার কাড়তে পারল না রাজ্যের বিজেপি সরকার। বার বার তাদের মুখ পুড়েছে। এটা আমাদের নৈতিক জয় বলে আমি মনে করি। প্রথমে মিলনকে দু’দশক আগের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা, হাই কোর্ট জামিন দিলেও সেই রায়ের বিরুদ্ধে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে জামিন আটকাতে চেয়েছিল রাজ্য। সুপ্রিম কোর্টে নাক কাটা গেল। এই রায়কে হাতিয়ার করে মিলন লড়াই চালিয়ে যাবে, কংগ্রেস লড়াই চালিয়ে যাবে। আমরা মাথা নোয়াইনি, নোয়াব না।’’

Nandigram Congress By-Election Supreme Court Milan Pradhan

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy