Advertisement
E-Paper

বনগাঁয় সিপিএমের বইয়ের স্টলে সায় হাই কোর্টের! পুলিশকে অনুমতি দিতে নির্দেশ, ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছে রাজ্য

সিপিএমের অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় একটি মণ্ডপের সামনে তারা স্টল বসানোর অনুমতি পাচ্ছে না। তা নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৩৫

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় বইয়ের স্টল বসাতে পারবে সিপিএম। এই নিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার জন্য বনগাঁর পুলিশ সুপার এবং থানার আইসি-কে নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশে আপত্তি জানিয়েছে রাজ্য। নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে তারা ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হতে চলেছে।

সিপিএমের অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় একটি মণ্ডপের সামনে তারা স্টল বসানোর অনুমতি পাচ্ছে না। তা নিয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, সিপিএম যেখানে স্টল করতে চাইবে, তার ১০০ মিটারের মধ্যে তাদের বুকস্টল করতে দিতে হবে। দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বুকস্টল চালাতে আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনও সমস্যার মুখে যাতে পড়তে না হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বন্দোবস্তও করতে বলেছেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে বুকস্টল হল কি না, তা নিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে রিপোর্টও তলব করেছে হাই কোর্ট। ২৩ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

সিপিএম বইয়ের স্টল নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে যে মামলা করেছিল, তা বুধবার বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে ওঠে। সিপিএমের আইনজীবীর সওয়াল ছিল, বহু বছর ধরে তারা সেখানে বইয়ের স্টল দিয়ে আসছে। এই বছর হঠাৎ অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। অথচ অন্যদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সিপিএমের বক্তব্য, হিন্দু জাগরণ মঞ্চও সেখানে বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি পেয়েছে। সে ক্ষেত্রে সিপিএম ছাড়া বাকিদের কাছে স্টল বসানোর প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে সিপিএম।

শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, “এক পক্ষকে (অনুমতি) দেওয়া হবে, অন্যদের দেওয়া হবে না— এটা ঠিক নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বরকে এ ভাবে দাবিয়ে দেওয়া উচিত নয়।’’ হাই কোর্টের প্রশ্ন ছিল, কেউ বইয়ের দোকান দিলে কিসের অসুবিধা? বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের মন্তব্য, “সেখানে তো কোনও লটারি দোকান দেবেন না। বইয়ের দোকান দেবেন। অসুবিধার কী আছে?” বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বর যাতে রোধ না হয়, সে বিষয়টিও তুলে ধরে আদালত।

রাজ্যের হয়ে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎনাথ মিত্র। বুধবার তাঁর বক্তব্য ছিল, এই মামলাটি পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা অতিসক্রিয়তা সংক্রান্ত মামলা নয়। এটির সঙ্গে পুলিশের কোনও সম্পর্ক নেই। তাই সিপিএমের মামলাটি বিচারপতির ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শুনতে পারে না বলে এজলাসে জানান তিনি। মামলাটি যাতে উপযুক্ত বেঞ্চে শোনা হয়, সেই আবেদন জানান তিনি (হাই কোর্টের কোন এজলাসে কী বিষয়ক মামলা শোনা হবে, তার পূর্বনির্ধারিত রস্টার থাকে। বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে বর্তমানে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা অতিসক্রিয়তা সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়)।

তার পরেই বৃহস্পতিবার বিচারপতি ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, সিপিএম বনগাঁর ওই মণ্ডপে বইয়ের স্টল দিতে পারবে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছে রাজ্য সরকার।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy