Advertisement
E-Paper

মনোজকে ‘ভোটচোর’ বললেও প্রমাণ দাখিল করেননি! মহুয়াকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পোস্ট মোছার নির্দেশ কোর্টের, লাগাম মন্তব্যে

আদালত জানায়, মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে মানহানিকর কোনও মন্তব্য করে মহুয়া সমাজমাধ্যমে নতুন পোস্ট দিতে পারবেন না। ওই সংক্রান্ত পুরনো কোনও পোস্টও ফের শেয়ার করতে পারবেন না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:২২
(বাঁ দিকে) মনোজ অগ্রবাল। মহুয়া মৈত্র (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) মনোজ অগ্রবাল। মহুয়া মৈত্র (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালকে সমাজমাধ্যমে ‘ভোটচোর’ বলেছিলেন মহুয়া মৈত্র। কৃষ্ণনগরের সাংসদের সেই মন্তব্যেই নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতার আলিপুর আদালত। কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-কে নিয়ে সমাজমাধ্যমে মহুয়া যে মন্তব্য করেছেন, তার সপক্ষে প্রমাণ দিতে পারেননি। নির্দেশনামা পেয়েই সেই মন্তব্য মুছতে হবে বলে জানিয়েছে কোর্ট।

মহুয়াকে তাঁর মন্তব্যের জন্য আইনি নোটিস পাঠান মনোজ। ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১০ কোটি টাকা দাবি করেন। পরে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালত জানায়, মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে মানহানিকর কোনও মন্তব্য করে মহুয়া সমাজমাধ্যমে নতুন পোস্ট শেয়ার করতে পারবেন না। ওই সংক্রান্ত পুরনো কোনও পোস্টও ফের শেয়ার করতে পারবেন না। গত ৩ অক্টোবর এবং ৬ অক্টোবর মহুয়া যে পোস্ট করেছিলেন, নির্দেশনামা পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা মুছতে হবে বলেও জানিয়েছে কোর্ট। মহুয়াকে নোটিস দিয়ে জানাতে হবে, কেন তাঁর মন্তব্যে আদালত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, মহুয়ার পোস্টগুলিতে শুধু এসআইআরের সমালোচনা করা হয়নি। বরং মনোজের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। সেই অভিযোগগুলির সমর্থনে মহুয়া কোনও প্রমাণ দেননি। ফলে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগগুলির ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। আদালত এ-ও জানিয়েছে, এসআইআরের মতো জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে আলোচনা বা সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা যাবে। কিন্তু সেই সমালোচনার নামে ব্যক্তিগত ভাবে কাউকে অপমান করে নিশানা করা যাবে না। আগামী ৫ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

মনোজের অভিযোগ, সমাজমাধ্যমে তাঁকে ‘ভোটচোর’ বলে উল্লেখ করেছিলেন মহুয়া। কোনও প্রমাণ ছাড়াই সেই পোস্ট করেছিলেন মহুয়া। সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রমাণ ছাড়া এ রকম করা যায় না। পোস্ট দিয়ে মহুয়ার বক্তব্য ছিল, লক্ষ লক্ষ বৈধ বাঙালি ভোটারের ভোটাধিকার বেআইনি ভাবে কেড়ে নেওয়ার জন্য মনোজ দায়ী। সমাজমাধ্যমের ওই পোস্টে মহুয়ার বক্তব্য ছিল, ‘‘দেশ এ বার আপনাকে ধাওয়া করবে। ছাড় পাবেন না।’’ মনোজের আইনজীবীর বক্তব্য, প্রাক্তন সিইও কোনও ভোট চুরি, কারচুপি বা বেআইনি কাজ করেননি। তাঁর কাজ ছিল আইন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে সরকারি দায়িত্ব পালন করা।

মনোজের তরফে মহুয়াকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে দাবি করা হয়, মহুয়ার অভিযোগের ফলে তাঁর সততা, পেশাগত দক্ষতা ও ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নোটিস পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহুয়াকে দু’টি পোস্ট মুছে ফেলতে হবে। সেই সঙ্গে লিখিত ভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের মানহানিকর মন্তব্য করবেন না বলে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। মানহানির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা এবং আইনি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। মনোজের তরফে জানানো হয়, তাঁর আইনি নোটিসের জবাব না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

ওই নোটিস পাওয়ার পরে মহুয়া সমাজমাধ্যমে জানান, তিনি তা নিয়ে ‘তোয়াক্কা’ করেন না। তার পরে মনোজ আদালতের দ্বারস্থ হন।

SIR

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy