রবিবার সন্ধ্যায় আরএসএস-এর পূর্ব ভারতীয় ক্ষেত্রের সদর দফতর কেশব ভবন থেকে ঘুরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মানিকতলার ৯ নম্বর অভেদানন্দ রোডে সঙ্ঘের এই দফতরে আগও বিভিন্ন সময়ে গিয়েছেন তিনি। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন একাধিক সমন্বয় বৈঠক করেছেন এই কার্যালয়ে। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম বার কেশব ভবনে গেলেন শুভেন্দু।
এ দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ উত্তর কলকাতায় সঙ্ঘের কার্যালয়ে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন প্রায় আড়াই ঘণ্টা। রাত ৯টা ২০ মিনিট নাগাদ কেশব ভবন থেকে বেরিয়ে যান তিনি। সঙ্ঘের এই কার্যালয়ে আগেও একাধিক বার গিয়েছেন শুভেন্দু। তবে রবিবার সন্ধ্যার এই কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ। বস্তুত, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই জেলায় জেলায় নিচুতলায় বিজেপির সংগঠন বাড়ানোর কাজ চালিয়েছে আরএসএস। গত কয়েকটি নির্বাচনে ধাপে ধাপে শক্তি বৃদ্ধি করে এ বার রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এ অবস্থায় সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় উত্তর কলকাতায় সঙ্ঘের দফতর থেকে ঘুরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ঘটনাচক্রে, রবিবারই ‘লোকতন্ত্র সেনানী সঙ্ঘের’ প্রবীণ সদস্যদের সম্মানিত করেছে রাজ্য সরকার। জরুরি অবস্থা চলাকালীন আন্দোলন করে যাঁরা জেল খেটেছিলেন, তাঁদের সংবর্ধনা দিতে নবান্নে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকেই ‘লোকতন্ত্র সেনানী’দের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা সম্মানিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সরকারি বাসে তাঁদের বিনামূল্যে ভ্রমণেরও সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
আরও পড়ুন:
নবান্নের কর্মসূচি থেকে ‘লোকতন্ত্র সেনানী’দের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যে আদর্শের বীজ বপন করেছিলেন, যে ভিত্তি রচনা করেছিলেন— সেই ভিতের উপরে দাঁড়িয়ে আজ পশ্চিমবঙ্গে আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বক্তৃতার সুযোগ পাচ্ছি। আপনাদের তৈরি করা সোপানের উপরে ভিত্তি করেই এই সরকারটা তৈরি হয়েছে। সময় লেগেছে। কয়েক দশক লেগেছে বিচারধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”