বর্ষা বাড়ার সঙ্গেই রাজ্য জুড়ে উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে ডেঙ্গি পরিস্থিতি। স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৫,০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে রাজ্যে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,০০২ জন। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, পরীক্ষার পরিধি বাড়লে এই সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়তে পারে। উদ্বেগের বিষয় হল, গত ৬ অগস্ট পর্যন্ত রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২,৪১০ জন। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রাজ্যে নতুন করে আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। অন্য দিকে, এই বছরই আসছে না ডেঙ্গির টিকা। আগামী বছর ডেঙ্গি মরসুমের আগে ডেঙ্গির টিকা বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। রবিবার লিভার ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা জানান আইসিএমআর-এর ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব বহেল। জেলাভিত্তিক সংক্রমণের নিরিখে বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মুর্শিদাবাদে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ, মোট ১,০৭২ জন। এর পরেই রয়েছে কলকাতা। পুরসভা ও স্বাস্থ্য দফতরের ১০ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতায় মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ পার করেছে। অন্যান্য জেলাগুলির মধ্যেও সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য ভবনের তালিকা অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনায় ৪৫০ জন, নদিয়ায় ৪০০-র বেশি, মালদহে ৪০০-র বেশি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৩৬৭ জন, হাওড়া ও হুগলিতে যৌথ ভাবে প্রায় ৩২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া পূর্ব বর্ধমানে ২৫৬ জন, পশ্চিম বর্ধমানে ১৫৫ জন, পূর্ব মেদিনীপুরে ১২৬ জন, পশ্চিম মেদিনীপুরে ১০৪ জন, ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলায় ৮৮ জন এবং ঝাড়গ্রামে ৫৪ জনের শরীরে ডেঙ্গির সংক্রমণ মিলেছে বলে স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন:
কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দিয়েছে প্রশাসন। পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, শহরের ১২টি ওয়ার্ডে সংক্রমণের তীব্রতা সবথেকে বেশি। এর মধ্যে কলকাতা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গত এক সপ্তাহে নতুন করে ৫৬ জন আক্রান্ত হওয়ায় সেটিকে অন্যতম ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং স্বাস্থ্য দফতর ও সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলিকে প্রয়োজনীয় গাইডলাইন কঠোর ভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য দফতর একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, উপদ্রুত এলাকাগুলিতে মেডিক্যাল কলেজ ও বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে ফিভার ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন-সহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি চলছে। সরকারি পরিকাঠামো না থাকলে সাধারণ মানুষ যাতে স্বল্প খরচে বেসরকারি ল্যাবরেটরি থেকে রক্ত পরীক্ষা করাতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে ভেক্টর কন্ট্রোল টিম কীটনাশক ছড়ানোর কাজ জোরদার করেছে। রেল ইয়ার্ড ও পরিত্যক্ত জায়গাগুলি সাফাইয়ের পাশাপাশি আশা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরের সমীক্ষা চালাচ্ছেন। কোনও ব্যক্তির শরীরে উপসর্গ দেখা দিলেই অবিলম্বে সরকারি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সচেতনতা বাড়াতে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে বরো স্তরে পদযাত্রারও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।