তোলাবাজি এবং বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগে অভিষুক্ত সব্যসাচী দত্ত। পুলিশ এই মামলার তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তভার হাতে নেয় ইডিও। সেই মামলার সূত্র ধরে দিন কয়েক আগেই সব্যসাচী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের ১৯টি ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানে কী কী পাওয়া গিয়েছে, তার তালিকা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সব্যসাচী বর্তমানে জেল হেফাজতে। তাঁকে গ্রেফতারির পরেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। সেই তালিকায় ছিল সব্যসাচী-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেত্রী তথা নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্য টিনা ভৌমিক সাহার পৈতৃক বাড়িও। রাতভর তল্লাশি চালিয়ে করিমপুরে ওই নেত্রীর বাড়ি থেকে তিন কেজি সোনার গয়না উদ্ধার করা হয়েছিল। বর্তমানে যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা। পরে পুলিশ আদালতে যে চার্জশিট দিয়েছিল, সেখানেও এই সোনা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পুলিশের পাশাপাশি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে তৎপর হয় ইডিও।
ইডি জানিয়েছে, তল্লাশি চালিয়ে সব্যসাচী-সহ তাঁর ঘনিষ্ঠদের বাড়ি থেকে অনেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ইডির দাবি, বিভিন্ন ভুয়ো কোম্পানির অন্তরালে তোলাবাজির টাকা দিয়ে সম্পত্তি করেছিলেন সব্যসাচী। রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে তোলাবাজি এবং বেআইনি কার্যকলাপ করতেন তিনি।
ইডি জানিয়েছে, সব্যসাচী এবং তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১৫০টি ব্যাঙ্ক এবং ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে কমপক্ষে প্রায় ১৪ কোটি টাকা রয়েছে। ইডি জানিয়েছে, তল্লাশি অভিযানে সাড়ে ৪০ লক্ষ টাকা নগদ ছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রাও উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়াও, বিভিন্ন নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং লেজ়ার খাতা পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, বিধাননগর উত্তর থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে গত ২৩ জুন ইডি আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে একটি ইসিআইআর করে। সেই ভিত্তিতেই এই তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। তারা জানিয়েছে, বিশদে এই মামলার তদন্ত চলছে।