Advertisement
E-Paper

শুভেন্দুর চিনার পার্কের বাড়ির আশপাশে বেশ কয়েকবার রেকি! সিসিটিভিতে ধরা পড়ার ভয়ে ছবি তোলার ঝুঁকি নেননি হামিম

এসটিএফ সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ছবি তোলার চেষ্টাও করেছিলেন হামিম। কিন্তু গোটা চত্বর সিসি ক্যামেরায় মোড়া থাকায় চিহ্নিত হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল তাঁর। সেই কারণেই ছবি তোলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ অগস্ট ২০২৬ ১০:৩২
হামিম মণ্ডল।

হামিম মণ্ডল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

জঙ্গিযোগের কারণে ধৃত হামিম মণ্ডল সম্পর্কে নতুন তথ্য হাতে পেলেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তেই জানা গিয়েছিল যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্যের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজর রাখার দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর। সেই মতো শুভেন্দুর চিনার পার্কের বাড়ির আশপাশে বেশ কয়েক বার রেকি (সরেজমিনে খতিয়ে দেখা) করেন হামিম।

গত সপ্তাহে বর্ধমান থেকে হামিমকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সেই এসটিএফ সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ছবি তোলার চেষ্টাও করেছিলেন হামিম। কিন্তু গোটা চত্বর সিসি ক্যামেরায় মোড়া থাকায় চিহ্নিত হয়ে যাওয়ার ভয় ছিল তাঁর। সেই কারণেই ছবি তোলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেন তিনি। ওই সূত্রের দাবি, জেরায় হামিম জানিয়েছেন, পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলাররা তাঁকে বলেছিল, ছবি বা ভিডিয়ো তোলার কাজ যেন সিসি ক্যামেরায় ধরা না-পড়ে!

এসটিএফ সূত্রে খবর, মোবাইল টাওয়ারের অবস্থান খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা হামিমের আগের গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে যান। সেখানেই ধরা পড়ে যে, শুভেন্দুর বাড়ির সামনে বেশ কয়েকবার গিয়েছিলেন হামিম। এই বিষয়ে তদন্তকারীদের কাছে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও প্রথমে তা অস্বীকার করেন তিনি। পরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি জানান, বেশ কয়েক বার মুখ্যমন্ত্রীর চিনার পার্কের বাড়ির আশপাশে রেকি করতে গিয়েছিলেন তিনি। এমনকি শুভেন্দু যে পথ ধরে যাতায়াত করেন, সেগুলিতেও রেকি করা হয়েছিল।

জঙ্গিযোগে হামিমের পাশাপাশি তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিংহ ওরফে রাজ নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং সে দেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। জঙ্গি নাশকতামূলক কাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল পশ্চিমবঙ্গে। নিশানায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অভিযোগ, অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসাবে ব্যবহার করা হত। নেতা-মন্ত্রী এবং আমলাদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতেন অর্পিতা।

ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, খুন এবং নাশকতা করে রাজ্যে একটা বড় অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা ছিল পাক গুপ্তচর সংস্থার হয়ে কাজ করা শাহজ়াদ ভাট্টি গোষ্ঠীর। হামিম ছাড়াও এ রাজ্যে অন্য কাউকে দিয়ে আরও একটি সমান্তরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে ভাট্টি গোষ্ঠী, এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিতে পারছেন না গোয়েন্দারা।

STF Suvendu Adhikari ISI

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy