সকাল সকাল তৈরি হচ্ছিলেন কলকাতা যাবেন বলে। ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে তারামণ্ডলের কাছে কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। অনুগামীরাও তৈরি। হঠাৎ বাড়ির দরজায় উপস্থিত পুলিশ। থানায় যেতে হবে।
মঙ্গলবার দীর্ঘ ক্ষণ থানায় বসে থাকার পরে তোলাবাজির অভিযোগে চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তবে বিকেলেই জামিন পেলেন তিনি। ততক্ষণে অবশ্য মমতার কর্মসূচি শেষ হয়ে গিয়েছে। আদালত থেকে বেরিয়ে হুগলি জেলার কালীঘাট তৃণমূলের প্রবীণ সভাপতির উক্তি, ‘‘আমার জীবন আইন আর ভাগ্যের মাঝে ঝুলছে। তবে যাই-ই হোক, মমতার সঙ্গে আছি।’’
পুলিশ সূত্রে খবর, চুঁচুড়া হরগৌরীতলার বাসিন্দা জনৈক জ্যোৎস্না হাজরা অভিযোগ করেছিলেন, ২০১৩ সালে একটি আবাসনের প্ল্যান পাশ করাতে চুঁচুড়া পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায় এবং বিধায়ক অসিত মজুমদার নিজেদের পদের অপব্যবহার করেছেন। তাঁরা একটি গ্যারাজ বিনামূল্যে দানপত্র করে দিতে বলেছিলেন চাঁদু দাস নামে এক ব্যাক্তিকে। তা না-হলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। দানপত্র করে দেওয়ার পরেই আবাসনের প্ল্যানের অনুমোদন পান তিনি। পরবর্তী সময়ে দানপত্র বাতিল করার আবেদন জানিয়েছিলেন। তখন আবার খুন করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় তাঁকে। সম্প্রতি ওই নিয়ে চুঁচুড়া আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন অভিযোগকারী। তার মধ্যে সোমবার চুঁচুড়া থানায় আবার অভিযোগ করেন তিনি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৮(৫),৩১৬(২) ও ৩১৮(৪), ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয় অসিতের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ওই মামলাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
তবে অসিতের অনুগামীদের দাবি, প্রাক্তন বিধায়ককে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অন্য মামলার কথা বলে। সম্প্রতি সিবিআই আধিকারিকের পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি অসিতকে ভয় দেখিয়েছিলেন। পরে জানা যায়, ভুয়ো পরিচয় দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি হাবড়া থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তিই ভুয়ো আধিকারিক কি না, শনাক্ত করার জন্য অসিতকে ডাকা হয়েছিল। পরে জানা যায়, তাঁকে অন্য মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অসিত চার হাজার টাকার বন্ডে জামিন পেয়েছেন। চুঁচুড়া আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করে। তৃণমূল নেতার আইনজীবী শুভাশিস চন্দ বলেন, ‘‘আমরা আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, যে মামলায় অসিত মজুমদারকে যুক্ত করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তাই আদালত জামিন মঞ্জুর করেছে।’’ গ্রেফতারির পরে অসিত দুষেছিলেন তাঁর ভাগ্যকে। বলেছিলেন, ‘‘আমার ভাগ্যটাই খারাপ।’’ সম্প্রতি ১৯ দিন জেল খেটেছেন তিনি। কয়েক দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বার জামিন পাওয়ার প্রাক্তন বিধায়ক আক্ষেপের সুরে জানালেন, ভাগ্যের হাতে জীবন সঁপে দিয়েছেন তিনি।