পুজো দোরগোড়ায়। অথচ গত কয়েক মাস ধরে বেতন বকেয়া। বকেয়া বেতন দ্রুত মেটানোর দাবিতে এ বার পুরসভার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। ডাক দেওয়া হল কর্মবিরতির, যার জেরে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় বিধায়ক সুবীর নাগ।
পুরসভা সূত্রে খবর, গত তিন মাস ধরে বেতন পাননি মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী এবং কর আদায়কারীরা। অন্য দিকে, পুরসভার অফিসের কর্মী, সাফাইকর্মী, নিরাপত্তারক্ষী, অ্যাম্বুল্যান্স-সহ অন্যান্য গাড়ির চালকদের দু’মাস ধরে বেতন হয়নি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমানে পুরসভায় স্থায়ী কর্মীর চূড়ান্ত অভাব রয়েছে। কার্যত অস্থায়ী কর্মীদের কাঁধেই যাবতীয় কাজের ভার। তা সত্ত্বেও নিয়মিত বেতন মেলে না। সামনেই পুজো, এই পরিস্থিতিতে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন:
অস্থায়ী কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধি রাধেশ্যাম শঙ্খবণিক বলেন, “এর আগেও আন্দোলন করেই এই পুরসভায় আমাদের বেতন আদায় করতে হয়েছে। বোর্ডে ফুলবদল হলেও পুরসভার অভ্যাস পাল্টায়নি। বাধ্য হয়েই আজ আমরা অবস্থানে বসেছি।”
তাঁদের দাবি, পুর প্রশাসক ও বিধায়ককে বার বার বকেয়া বেতনের কথা জানানো হলেও মেলেনি কোনও সদুত্তর। প্রসঙ্গত, বর্তমানে এই পুরসভায় কোনও নির্বাচিত বোর্ড নেই। দায়িত্ব সামলাচ্ছেন পুর প্রশাসক। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের ফলেই এই আর্থিক সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে পুরসভার একাংশের মত।
মঙ্গলবার বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরসভায় পৌঁছোন বিধায়ক সুবীর নাগ। তিনি কর্মীদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। দ্রুত এই জট কাটাতে শ্রমিক প্রতিনিধি এবং পুর প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন তিনি।