ঘাটালের সাংসদ-অভিনেতা দেবের কলকাতার বাসভবনে গণেশপুজোয় অতিথি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তৃণমূল ছেড়ে সদ্য এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া দেব তথা দীপক অধিকারীর বাড়িতে মঙ্গলবার সুকান্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্য, রাজ্য বিজেপি কর্মসমিতির সদস্য অনল বিশ্বাস-সহ অন্যরা।
ঘাটালের সাংসদ-অভিনেতা দেবের বাড়িতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত।
তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ রাজ্যে পালাবদলের পরই তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেন। তার আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তরের নেতা তথা মোদী মন্ত্রিসভার সদস্য ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে তাঁরা বৈঠক করেছিলেন। সে বৈঠকে হাজির ছিলেন দেবও। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সে বৈঠকে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু রাজ্যে ফিরে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে তিনি আর কোনও নৈকট্য দেখাননি। শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদারেরাও দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু গণেশপুজোয় দেবের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এবং সুকান্তের সাক্ষাতের পর সে ছবি খানিকটা বদলে গেল বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদেরা।
আরও পড়ুন:
বিজেপি ও এনসিপিআই-এর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুকান্ত বলেন, “এর মধ্যে কেউ রাজনৈতিক গন্ধ খোঁজার চেষ্টা করবেন না। দেবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহু পুরনো এবং আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে ২০২৪ সালে তৃণমূলের স্টার প্রচারক হয়ে দেব যখন আমার লোকসভা এলাকায় গিয়েছিল, তখন মঞ্চ থেকেই সে আমাদের ভাল সম্পর্কের কথা স্বীকার করে। মঞ্চ থেকে ভাষণ দিতে দিতে এ-ও বলে যে, ভাল প্রার্থীই জিতবে। তাঁর এই উদার মানসিকতা আমার ভাল লেগেছিল।”
তিনি আরও জানান, দেবের বাড়িতে তাঁর এই আমন্ত্রণ একান্তই ‘সৌজন্যমূলক’।
উল্লেখ্য, সোমবার কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া দাবি করেন, তাঁকে নিয়ে যে ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ১৭ জনই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। তিন সংখ্যালঘু সাংসদ বিজেপিতে যোগ না-দিলেও এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কটাক্ষের সুরে বলেন, “যে বিজেপিতে ওঁরা যোগদান করতে চাইছেন, সেটা হয়তো মঙ্গলগ্রহের বিজেপি।” কিন্তু মঙ্গলবার গণেশপুজো উপলক্ষে দেবের বাড়িতে সুকান্তের ‘সৌজন্য সফরে’ অনেকে ভিন্ন বার্তা খুঁজে পাচ্ছেন।