কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে নকল তথ্য তৈরি হত। তাই দিয়ে ফলাও করে লটারি জেতার বিজ্ঞাপন দেওয়া হত। এই ভাবে অনেককে ঠকিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতানো হচ্ছিল। সম্প্রতি সেই নকল লটারি চক্রের হদিস পেল পুলিশ। সাইবার প্রতারণা মামলা হুগলির ডানকুনি থেকে গ্রেফতার বিহারের পাঁচ বাসিন্দা। সঙ্গে বিপুল জিনিসপত্র উদ্ধার করল পুলিশ।
সম্প্রতি চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ ডানকুনিতে হানা দিয়েছিল। সেখানে সূর্য সেন নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট পাঁচ ব্যক্তিকে পাকড়াও করে তারা। ধৃতদের বাড়ি বিহারের নালন্দা-সহ বিভিন্ন এলাকায়। অভিযোগ, ডানকুনিতে বসে প্রতারণা চক্রের ফাঁদ পেতেছিলেন ওই পাঁচ জন। সমাজমাধ্যমে এঁরা লটারির বিজ্ঞাপন দিতেন। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এআই দিয়ে নানা ভুয়ো তথ্য ব্যবহার করা হত সেখানে।
লটারি জেতার প্রলোভনে অনেকে যোগাযোগ করতেন। তখন তাঁদের নাম-ধাম, পেশা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ইত্যাদি দিয়ে ডেটাবেস তৈরি করতেন প্রতারকেরা। আর লটারি জিতেছেন বলে যাঁদের নাম ঘোষণা করা হত, তাঁরা সকলেই কল্পিত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজিতে তৈরি। চন্দননগর পুলিশের ডিসি ডিডি রূপান্তর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘সাইবার অপরাধ ঠেকাতে স্পেশ্যাল ড্রাইভ চলছে। সাইবার অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলিতে অভিযান হচ্ছে। এনসিআরপি পোর্টালে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর একটি মামলার তদন্তে নেমে ডানকুনি থেকে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নিয়ে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’ পুলিশ আধিকারিক জানান, নকল তথ্য দেখিয়ে বলা হত পুরস্কার জিতেছেন অমুক। কিন্তু সমস্তটাই ভুয়ো। কখনও জিএসটি, কখনও ট্যাক্স তো কখনও অন্য কারণ দেখিয়ে মানুষজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হত। বিহারের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ওই প্রতারণার অর্থ গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে ২০টি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ, ২২টি সিম কার্ড, ২৩টি ডেবিট কার্ড, একটি পাসবই এবং এআই দিয়ে তৈরি প্রচুর নকল তথ্য উদ্ধার হয়েছে। ডানকুনিতে বসেই ৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকার প্রতারণার হদিস পাওয়া গিয়েছে। এ নিয়ে বিশদে তদন্ত চলছে।