E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

অবাধে বেআইনি ডিজ়েল মজুত মঙ্গলাহাটে, নেপথ্যে কি চক্র

সাম্প্রতিক কালের মধ্যে ২০২৩ সালে গভীর রাতে আগুনে ছাই হয়ে গিয়েছিল মঙ্গলাহাটের কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর দোকান। পরবর্তী কালে হাটের জমির মালিকানা নিয়ে গোলমালের কারণে হাটটি অধিগ্রহণ করে তৎকালীন রাজ্য সরকার। জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ভাবে স্টলও তৈরি করে দেয়।

দেবাশিস দাশ

শেষ আপডেট: ১৪ অগস্ট ২০২৬ ০৯:৩৫
অনিয়ম: ফুয়েল ডিসপেনসার লাগানো ট্যাঙ্কে করে ডিজেল এনে মজুত করা হচ্ছে হাওড়ার মঙ্গলাহাটে।

অনিয়ম: ফুয়েল ডিসপেনসার লাগানো ট্যাঙ্কে করে ডিজেল এনে মজুত করা হচ্ছে হাওড়ার মঙ্গলাহাটে। — নিজস্ব চিত্র।

২০২৩ সালের ২১ জুলাই আগুন লেগে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল হাওড়ার মঙ্গলাহাট। এ বার সেই হাটের পিছন দিকে ট্যাঙ্কারে করে শয়ে শয়ে লিটার ডিজ়েল এনে মজুত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতি সপ্তাহে ৫০০ লিটারেরও বেশি তেল মজুত করায় প্রশ্ন উঠেছে, প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ভাবে অতি দাহ্য তেল জেরিক্যানে করে কী ভাবে হাটের ভিতরে মজুত করা হচ্ছে?

বিশেষত যে জায়গা জামাকাপড়ের মতো দাহ্য বস্তুতে ঠাসা থাকে? ফের অগ্নিকাণ্ড ঘটলে এ বার হাট-সহ পাশে থাকা পুলিশ কমিশনারের বাংলো, ভূমি রাজস্ব দফতরও যে জতুগৃহে পরিণত হবে, সেই আশঙ্কা করছেন অনেকে। প্রশ্ন উঠেছে, গত তিন বছর ধরে হাটের ব্যবসায়ীদের বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় জেনারেটর ভাড়া দিয়ে যে চক্রটি লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে, এই বেআইনি তেল মজুতের পিছনেও কি তাদেরই হাত রয়েছে? পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

সাম্প্রতিক কালের মধ্যে ২০২৩ সালে গভীর রাতে আগুনে ছাই হয়ে গিয়েছিল মঙ্গলাহাটের কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর দোকান। পরবর্তী কালে হাটের জমির মালিকানা নিয়ে গোলমালের কারণে হাটটি অধিগ্রহণ করে তৎকালীন রাজ্য সরকার। জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ভাবে স্টলও তৈরি করে দেয়। কিন্তু তার পরেও কোনও অজ্ঞাত কারণে আটকে রয়েছে হাটের বিদ্যুৎ সংযোগ।

হাটটির এক সময়ের মালিকানার দাবিদার শান্তিরঞ্জন দে বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছি। আদালত নির্দেশও দিয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে সিইএসসি গত তিন বছর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়নি। এই সুযোগে কিছু দুষ্কৃতী জেনারেটরের ভাড়া হিসাবে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা পকেটে পুরছে।’’ সম্প্রতি ওই হাটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা আদায়ের অভিযোগে পুলিশ চার জনকে গ্রেফতারও করেছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, সম্প্রতি এই দুষ্কৃতীরা জেনারেটরের নামে কয়েকশো লিটার ডিজ়েল ‘ফুয়েল ডিসপেনসার’ লাগানো ট্যাঙ্কারে নিয়ে এসে অবাধে হাটের ভিতরে মজুত করছে। জেনারেটরের জন্য যেখানে সপ্তাহে খুব বেশি হলে ১০০ লিটার তেল দরকার, সেখানে মজুত করা হচ্ছে ৫০০ লিটারেরও বেশি! স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতি থেকে শনিবারের মধ্যে রামেশ্বর মালিয়া লেনের কাছে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের উল্টো দিকে হাটের গেটের সামনে ওই ট্যাঙ্কার আসে। এর পরে সেখান থেকে পেট্রল পাম্পের মতো ফুয়েল ডিসপেনসার দিয়ে পাম্প করে তেল ভর্তির কাজ চলে হাটের ভিতরে। ৩০-৪০টি জেরিক্যান ভর্তি ডিজ়েল রাখা হয় কোনও স্টলে। কিছু পরিমাণ বাইরেও পাচার হয় বলে অভিযোগ।

মঙ্গলাহাটের এক ব্যবসায়ী জানান, নজরদারির অভাবে এই হাটের চার হাজার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ দেওয়ার নামে অবাধে তোলাবাজি হচ্ছে। সপ্তাহে দু’দিন ছ’ঘণ্টা করে আলো জ্বালানোর জন্য এক-এক জন ব্যবসায়ীর থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকা। সেই সঙ্গে রহস্যজনক ভাবে আলোর তার কেটে গেলে বা চুরি গেলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানাও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। হাওড়া মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সভাপতি মলয় দত্ত বলেন, ‘‘হাটের মধ্যে এ ভাবে তেল মজুত করলে যে কোনও দিন বড় অঘটন ঘটতে পারে। আমরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।’’ হাওড়া জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘এ নিয়ে কোনও অভিযোগ পাইনি। খোঁজ করে দেখে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। হাটের দিন হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা আসেন। কোনও ভাবে অগ্নিকাণ্ড হলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটবে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Howrah Mongla Hat Fuel

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy