Advertisement
E-Paper

সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়ির জন্য ‘নিকাশি বুজিয়ে রাস্তা’! তৈরিও হয়েছে পঞ্চায়েতের টাকায়, অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ

রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:৪৮
ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়ির সামনে বিক্ষোভ।

ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়ির সামনে বিক্ষোভ। — নিজস্ব চিত্র।

সিঙ্গুরে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাগানবাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপি কর্মীরা। বৃহস্পতিবার এক ব্যক্তির মুখে ইন্দ্রনীলের ছবি সেঁটে গলায় জুতো ঝুলিয়ে স্লোগান দেওয়ার হয়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ওই বাগানবাড়ির জন্য নিকাশির পথ বন্ধ করে পঞ্চায়েতের টাকায় বেআইনি ভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। গ্রেফতার করার পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইন্দ্রনীলকে আদালতে হাজির করানো হয়। তাঁর ১০ দিনের পুলিশি হেফাজত হয়েছে।

বুধবার গ্রেফতার হন ইন্দ্রনীল। ওই দিন পুজোর পাস বিলি মামলায় সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি দফতরে হাজিরা দেন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। পরে কলকাতা পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে অসহযোগিতার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে।

তার পরেই বৃহস্পতিবার সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়ি ‘মোহর’- এর সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দুর্নীতির টাকা দিয়ে বিলাসবহুল বাগানবাড়ি তৈরি করেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। দুর্নীতির টাকা বিভিন্ন খাতে ব্যবহার করা হয়েছে। এই দুর্নীতিতে আরও অনেকে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ বিজেপি কর্মীদের। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সিঙ্গুরের বাগডাঙ্গা ছিনামোর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ইন্দ্রনীলের ওই বাগানবাড়িতে আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা করা হত। তাঁদের আরও অভিযোগ, ওই বাড়ির জন্য নিকাশি বন্ধ করে পঞ্চায়েতের টাকায় নিয়ম বহির্ভূত ভাবে রাস্তা তৈরি করা হয়। বাগানবাড়ির ওই জমি পেতে সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা মন্ত্রী বেচারাম মান্নার ‘ঘনিষ্ঠ’ এক তৃণমূল নেতা সাহায্য করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়দের একাংশ।

বিজেপির সিঙ্গুর মণ্ডল সভাপতি উজ্জ্বল খামারু বলেন,‘‘মন্ত্রীর দাপট এমন ছিল, কেউ কথা বলতে পারত না। সিঙ্গুরের এই জমির ব্যবস্থাও বাগডাঙ্গা ছিরা মোড় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান করে দিয়েছিলেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পুরো বেআইনি ভাবে পঞ্চায়েতের টাকায় রাস্তা তৈরি হয়েছে রাতারাতি। আর এখানে কৃষিক্ষেত্রে যে নিকাশি ব্যবস্থা ছিল, সেটা পুরো বন্ধ হয়ে গিয়েছে এই বাগান বাড়ির জন্য।’’ কেন, তা-ও ব্যাখ্যা করেন উজ্জ্বল। তিনি বলেন, ‘‘বর্ষা হলে আশপাশের জমির জল যাওয়ার জায়গা পায় না। নিকাশি যে নালা ছিল, সেটাও বুজে গিয়েছে। দুর্নীতির টাকায় অট্টালিকা তৈরি হয়েছে। আর তার ফল ভুগছে সাধারণ মানুষ।’’

রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে একাধিক বার ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তল্লাশি চালানো হয়েছিল তাঁর একাধিক ঠিকানায়। দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো মিটতেই আবার তলব করা হয়েছিল তাঁকে বুধবার।

ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে পুজোর পাসে দুর্নীতি সংক্রান্ত মূল অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছিল কলকাতা পুলিশের কাছে। বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। পরে ইডি-ও তদন্ত শুরু করে।

ইডি এবং পুলিশের তদন্তের মধ্যেই আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু সেখানে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ইন্দ্রনীল সুপ্রিম কোর্টে যান। কিন্তু এখনও শীর্ষ আদালতের রায় আসেনি। মঙ্গলবার ইন্দ্রনীলের মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের এজলাসে মামলাটি উঠলে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ান। ফলে নতুন করে তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy