গঙ্গার ধারে তৈরি হওয়া তৃণমূলের কার্যালয়ে চলল বুলডোজ়ার। হাওড়ায় ভেঙে দেওয়া হল তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের কার্যালয়। মঙ্গলবার বেলায় পুরসভার কর্মীরা বুলডোজ়ার নিয়ে এসে ওই কার্যালয় ভেঙে দেন।
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই দিকে দিকে বুলডোজ়ার অভিযান শুরু হয়েছে। নজরে রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা নানা অবৈধ নির্মাণ। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ সর্বত্র এই অভিযান চলছে। অতীতেও হাওড়ায় বিভিন্ন জায়গা বুলডোজ়ার এনে অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বার উত্তর হাওড়ার তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা হাওড়া জেলা সদরের প্রাক্তন সভাপতি গৌতম চৌধুরীর কার্যালয়ে বুলডোজ়ার চলল। অভিযোগ, গঙ্গার ধারের ওই কার্যালয় অবৈধ ভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল।
শুধু অবৈধ নির্মাণ নয়, ওই কার্যালয়ে রাতের অন্ধকারে নানা ধরনের অসামাজিক কাজ হত বলেও অভিযোগ। স্থানীয় বিজেপি নেতা রবি সাউ জানান, গঙ্গার ধারে পবিত্র মন্দির রয়েছে। আর সেই মন্দির সংলগ্ন অংশে অবৈধ ভাবে কার্যালয় তৈরি করেছিল তৃণমূল। তাই সেটা ভেঙে মন্দিরে সামনের অংশ খালি করে দেওয়া হল। অভিযোগ, ওই কার্যালয়ে নাকি মদের আসরও বসত।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মন্দিরের সামনে ওই কার্যালয় থাকায় ভক্তদের অসুবিধা হত। এখন আর সেই বাধা থাকল না। ভক্তেরা ভাল ভাবে মন্দিরে পুজো দিতে আসতে পারবেন। তবে ওই কার্যালয়ের নির্মাণ অবৈধ কি না, বা সেটা ভেঙে ফেলা নিয়ে গৌতমের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী দিনেও অবৈধ নির্মাণ নিয়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পালাবাদলের পর হাওড়া স্টেশনের বাইরে বেআইনি দখলদারি উচ্ছেদ করে আরপিএফ। প্রায় দেড়শো দোকান, ট্রলি এবং ডালা বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। শুধু হাওড়া স্টেশন নয়, দমদম, পার্ক সার্কাস, বালিগঞ্জের মতো স্টেশনগুলিতেও একই ভাবে উচ্ছেদ হয়। পাশাপাশি আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কার্যালয়েও বুলডোজ়ার চালানোর অভিযোগ ওঠে। তবে আপাতত ওই কার্যালয় ভাঙার উপর আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে।