দুর্গাপুজো শেষ। এক মাস পরেই জগদ্ধাত্রী পুজো। কাঠামো পুজো করে সে পুজোর প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেল চন্দননগরে। দুর্গাপুজোয় কলকাতার চোরবাগানে ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন জগদ্ধাত্রী পুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে বুধবার শহরের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষর করা স্মারকলিপি দেওয়া হল চন্দননগর থানায়। কারণ, চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজো এবং বিসর্জনের শোভাযাত্রা দেখতে অসংখ্য মানুষের সমাগম হয়।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, ‘‘জগদ্ধাত্রী পুজোয় চন্দননগরে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সব রকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জরুরি পরিষেবাও স্বাভাবিক রাখতে আমরা তৎপর।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘নাগরিক সমাজের সুচিন্তিত দাবি থাকলে নিশ্চয়ই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। চোরবাগানের কথা মাথায় রেখে ভিড় সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নতুন চিন্তাভাবনাও করা হচ্ছে।’’
চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পূজা কমিটি কর্তাদের দাবি, এখানে ভিআইপি-সংস্কৃতি নেই। ভিআইপি কার্ড দিয়ে মণ্ডপে প্রবেশের অগ্রাধিকার দেওয়ার ব্যবস্থা সাধারণত হয় না। তাঁদের বক্তব্য, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো অনেক সংগঠিত। পুজো মিটলেই পরের বছরের রূপরেখা তৈরির কাজ শুরু করে দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় কমিটির এক কর্তা জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দুর্গাপুজোর আগেই প্রশাসনের সঙ্গে তিন বার বৈঠক হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনিক সহযোগিতায় ভিড় সামাল দিয়ে যা ব্যবস্থা থাকে, এ বারেও থাকছে। ভিড় আন্দাজের থেকে আরও বাড়লে কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বছরের পর বছর লাখো মানুষের ভিড় সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা বারোয়ারি কমিটিগুলির রয়েছে। সে কারণেই নির্বিঘ্নে উৎসব হয়। তিনি বলেন, ‘‘চোরবাগানের ঘটনায় আমরা আরও সতর্ক হলাম।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমাদের এখানে নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী রাখা হয় অল্প কিছু পুজোয়। মূলত বারোয়ারির স্বেচ্ছাসেবকেরাই প্রশাসনের সহযোগিতায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করেন।’’
চোরবাগানের দুর্ঘটনায় মৃত বৈদ্যবাটীর শ্রীপর্ণা পোদ্দারের বাড়িতে মঙ্গলবার, নবমীর দুপুরে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সংবাদমাধ্যমের কাছে চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর কথা উল্লেখ করেন। তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলায় ভিড় সামাল দেওয়ায় এই জেলার পুলিশ-প্রশাসনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর ক্ষেত্রেও পুলিশ-প্রশাসন দক্ষতার সঙ্গে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন।
বুধবার, দশমীর সন্ধ্যায় চন্দননগর স্ট্র্যা ন্ড লাগোয়া আইএমএ ভবনের সামনে চোরবাগানের বিপর্যয়ে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আয়োজিত প্রতিবাদ-সভায় হাতে পোস্টার নিয়ে যোগ দেন সাধারণ মানুষ। মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করা হয়। নাগরিকদের বক্তব্যে উঠে আসে প্রশাসনের গাফিলতি, পুলিশি নজরদারির অভাব-সহ নানা প্রসঙ্গ। নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক কৌস্তভ সাহা বলেন, ‘‘এই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও সতর্ক হোক প্রশাসন। যাতে চন্দননগরে আসন্ন জগদ্ধাত্রী পুজোয় এ ধরনের কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে।’’