জঞ্জাল সরাবে কে? এ নিয়ে মুশকিলে পড়েছে শ্রীরামপুর-উত্তরপাড়া ব্লকের তিন পঞ্চায়েত (নবগ্রাম, কানাইপুর এবং রঘুনাথপুর) কর্তৃপক্ষ।
বেশ কয়েক বছর ধরে লাগোয়া উত্তরপাড়া পুরসভা ওই তিন পঞ্চায়েতের আবর্জনা নিজেদের বর্জ্য প্রতিস্থাপন প্রকল্পে নিয়ে যেত। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পরে উত্তরপাড়া পুর-কর্তৃপক্ষ সেই পরিষেবা বন্ধ করে দেন। ফলে, জঞ্জাল জমে নাকাল হচ্ছেন গ্রামের মানুষ। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক মহলে কথা চালাচালির পরে অগস্ট পর্যন্ত তিন পঞ্চায়েত থেকে আবর্জনা নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে ওই পুরসভা। তবে, এর পরের দায়িত্ব তারা নিতে পারবে না বলে জানিয়েছে। অগস্ট মাস শেষ হচ্ছে আগামী সোমবার। ফলে, সেপ্টেম্বর থেকে ওই তিন পঞ্চায়েতের জঞ্জাল অপসারণের কী হবে, সেটাই প্রশ্ন।
হুগলি জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘‘প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে আপাতত ওই তিন পঞ্চায়েতের আর্বজনা উত্তরপাড়া পুর-কর্তৃপক্ষ সরাতে রাজি হয়েছেন। আগামী মাস থেকে তিন পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে এলাকার আবর্জনা নিজেদের দায়িত্বেই অপসারণের ব্যবস্থা করতে হবে।’’
সংশ্লিষ্ট পঞ্চয়েতের কর্তাদের বক্তব্য, জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মধ্যস্থতায় এবং চুক্তিতে বহু বছর ধরেই উত্তরপাড়া পুরসভা ওই ব্যবস্থা কার্যকর করে আসছিল। এখন হঠাৎ করে তারা ওই ব্যবস্থায় দাঁড়ি টেনে দেওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন।
নবগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সোমা দাস বলেন, ‘‘আগামী মাস থেকে বৈদ্যবাটীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে আমাদের আবর্জনা পৌঁছতে হবে নিজেদের দায়িত্বে। আমাদের নিজস্ব গাড়ি নেই। ফলে, পঞ্চায়েত বাড়তি খরচের ফেরে পড়ে যাবে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘উত্তরপাড়া পুরসভা আপাতত আর্বজনা নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। আমরা চাইছি, জমে থাকা সমস্ত আবর্জনা সাফ করে সেখানে পাঠাতে।’’ একই সমস্যায় কানাইপুর এবং রঘুনাথপুর পঞ্চায়েতের কর্তারা।
পরের মাস থেকে সমস্যা সামাল দিতে তাঁরা কী পদক্ষেপ করেন,
সেটাই দেখার।