E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ভাসছে পুজোর সামগ্রী, গঙ্গা দূষণ রোধে প্রশ্ন

প্রশাসন সূত্রের খবর, চুঁচুড়া পুর এলাকার মোট ১২টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হওয়ার কথা। বুধবার, দশমীর রাত থেকে যা শুরু হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩৬
গঙ্গায় ভাসছে প্রতিমার কাঠামো। বৃহস্পতিবার চুঁচুড়ায়।

গঙ্গায় ভাসছে প্রতিমার কাঠামো। বৃহস্পতিবার চুঁচুড়ায়।

পাড়ে পুরসভার তরফে লাগানো ফ্লেক্স-ব্যানারে বড় বড় হরফে লেখা, ‘গঙ্গা আমার মা, একে পরিষ্কার রাখুন’। অথচ, সেই গঙ্গাতেই দশমীর বিসর্জনের পরে ভেসে গেল প্রতিমার কাঠামো, ফুলমালা-সহ নানাবিধ পুজোর সামগ্রী। বৃহস্পতিবার দিনভর চুঁচুড়ার বিভিন্ন গঙ্গার ঘাটে দেখা গেল এমনই ছবি।

এমন গঙ্গাদূষণ দেখে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। ব্যান্ডেলের পরিবেশপ্রেমী চন্দন ক্লেমেন্ট সিংহের কথায়, "এমনটা কাম্য ছিল না! গঙ্গা দূষণ রোধে এ শহরেই ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের কাজ চলছে। অথচ, পুলিশ-প্রশাসনের উপস্থিতিতেই গঙ্গা দূষিত হল।’’ এলাকার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘বুধবার রাত পর্যন্ত ভাটা ছিল। অনেকটা কাদা মাড়িয়ে ঠাকুর বিসর্জন দিতে হয়েছে। জল বাড়ায় কিছু কাঠামো ভেসে থাকতে পারে।’’ তিনি যোগ করেন, ‘‘গঙ্গা দূষণ হওয়ার কথা নয়। সব কাঠামো ও কিছু পুজো সামগ্রীও তুলে নেওয়ার কাজ চলছে।" প্রশাসনের কর্তাদের অবশ্য দাবি, সব কাঠামোই পাড়ে তোলা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, চুঁচুড়া পুর এলাকার মোট ১২টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন হওয়ার কথা। বুধবার, দশমীর রাত থেকে যা শুরু হয়েছে। সরকারি হিসেবে প্রায় ৩৫০ বারোয়ারির ওই সব ঘাটগুলিতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার কথা। এর বাইরে কিছু বাড়ির প্রতিমাও রয়েছে। তার মধ্যে অন্নপূর্ণা ঘাটে দশমীর রাতে সবচেয়ে বেশি (৫৮টি) বারোয়ারির প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিসর্জন তদারক করা এবং কাঠামো-সহ পুজোর সামগ্রী তুলতে প্রায় ৩০ জন পুরকর্মী ছিলেন। বিপদ এড়াতে একটি দূরত্ব পর্যন্ত জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। ভাটায় জল কম থাকায় সেই জালই অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে, শুরুতে জাল সরিয়ে বিসর্জন দিতে গিয়ে বেশ কয়েকটি কাঠামো জলে ভেসে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।

বৃস্পতিবার সকালেও প্রায় প্রতিটি ঘাট থেকেই জলে কাঠামো, খড়, ফুল ভাসতে দেখা গিয়েছে। কিছু সামগ্রীকে জলের তোড়ে ভেসে যেতেও দেখা গিয়েছে। শহরের কিছু কিশোর-যুবক বিভিন্ন ঘাটে নেমে কিছু কাঠামো তুলে ফেলেছেন কিছু রোজগারের আশায়। তাতে অবশ্য খানিকটা দূষণমুক্ত হয়েছে গঙ্গা।

পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই দৃশ্য হতাশাজনক! দূষণ রোধে হাজারো প্রচার-আন্দোলনের মাঝে চুঁচুড়ার ঘটনা গঙ্গা তথা পরিবেশকে কলুষিত করবে। গঙ্গা দূষণ রোধে প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার দাবি জানাচ্ছি।"

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Chinsurah

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy