জরাজীর্ণ ফরাসি রেজিস্ট্রি অফিস সংস্কারকে কেন্দ্র করে উৎসবের মেজাজে মেতেছে হুগলির চন্দননগর। শুক্রবার সেই সংস্কারের সূচনা হল। আলো ঝলমল চন্দননগর ঘুরে দেখলেন ভারতে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত থিয়েরি মাতু। তাঁর হাত ধরেই সূচনা হল সংস্কারের কাজের। জীর্ণতা কাটিয়ে আবার ওই ভবন ফরাসি আমলের মতো হয়ে উঠবে। আশাবাদী রাজ্যের মন্ত্রীরাও। আগামী দিনে এই চন্দননগরকে পর্যটকদের অন্যতম ঠিকানা করে তৈরি করার পরিকল্পনার কথা জানান রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
চন্দননগর রানিঘাটের কাছে রয়েছে এই ফরাসি রেজিস্ট্রি অফিস। ১৮৭৫ সালে তৈরি। একটা সময়ে ঝকমকে এই ভবনের দশা এখন ভগ্নপ্রায়। ভেঙে পড়া জানলা এবং লাল ইটের ফাঁক দিয়ে নেমেছে মোটা মোটা বটের ঝুরি। বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে এই ভবনটিকে ‘হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওই ভবন সংস্কারের জন্য একটি ‘মৌ’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। এখন সেই রেজিস্ট্রি অফিস সংস্কার করাকে কেন্দ্র করেই তিন দিনের একটি উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে এক সময়ের ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগরে। শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত চলবে সেই উৎসব।
ফরাসি রেজিস্ট্রি অফিস সংস্কারের কাজ শুরুর উদ্বোধনে ভারতে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত থিয়েরি মাতুর সঙ্গে রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। —নিজস্ব চিত্র।
উৎসবকে কেন্দ্র করে সেজে উঠেছে চন্দননগরের স্ট্র্যান্ড রোড। আর এই উৎসবে গা ভাসাতে গঙ্গাবক্ষ দিয়ে জলপথে চন্দননগরে এসে পৌঁছোন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। প্রতি বছরই জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে আলোর সাজে সেজে ওঠে চন্দননগর। তবে সেই পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার আগে অন্য এক উৎসবে মাতলেন চন্দননগরবাসী। সংস্কারের কাজের সূচনার পর চন্দননগরের ফরাসি কবরস্থান, মিউজিয়াম-সহ একাধিক জায়গা ঘুরে দেখেন থিয়েরি। মন্ত্রী, বিধায়কদের সঙ্গে মিলে ফুচকাও খান। পরে তিনি বলেন, ‘‘পর্যটন মানে ব্যবসা, শিক্ষা, আর্থিক লেনদেন, কর্মসংস্থান। তাই আগামী দিনে পর্যটন শিল্পকে নিয়ে ফ্রান্স এবং ভারতের মেলবন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে। ফরাসি বিনিয়োগকারীরা পশ্চিমবঙ্গে আসবেন।’’ ভারতের সঙ্গে ফ্রান্সের সুসম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে থিয়েরি বলেন, ‘‘আগামী দিনে এই চন্দননগরে আরও অনেক কাজ হবে।’’
আরও পড়ুন:
গোটা অনুষ্ঠানে ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর। তিনি বলেন, ‘‘কলকাতা থেকে প্যারিসে সরাসরি বিমান যোগাযোগ নেই। তার ফলে পর্যটনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। আগামী দিনে যাতে সেই সমস্যার সমাধান হয় তার চেষ্টা করা হবে।’’ শঙ্করের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি জানান, ফরাসি ফুটবল দল যাতে ভবিষ্যতে এ রাজ্যে খেলতে আসেন, তা নিয়ে থিয়েরির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শুক্রবারের অনুষ্ঠানে শঙ্কর, ইন্দ্রনীল ছাড়়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার, কলিতা মাজি। ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ, দিলীপ সিংহ, হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরী-সহ অনেকে।