শেয়ার বাজারে টাকা খাটিয়ে মাত্র ২৫ মাসের মধ্যে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন। প্রতারণার ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন একই পরিবারের তিন সদস্য। অভিযোগ, একটি ভুয়ো বিনিয়োগ সংস্থা খোলা হয়েছিল। টোপ দিয়ে সেখানে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে রাজি করানো হত। তার পর আত্মসাৎ করে নেওয়া হত বিনিয়োগের সমস্ত অর্থ। প্রতারণার সেই চক্র ফাঁস করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে মা, ছেলে-সহ ছ’জনকে।
হাওড়া সিটি পুলিশের তরফে বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে প্রতারণা মামলায় গ্রেফতারির কথা জানানো হয়েছে। ছিলেন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ডিসি (ডিডি) রাহুল মিশ্র এবং এসিপি (ডিডি) সমব্রিতি চক্রবর্তী। তাঁরা জানিয়েছেন, বেলিলিয়াস রোডের বাসিন্দা জনৈক ব্যবসায়ী রাজীব পালের অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করেছেন তদন্তকারীরা। রাজীবের অভিযোগ, ২০২৪ সালের মে মাসে টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর থেকে ১৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ২৫ মাসের মধ্যেই ওই অর্থ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। প্রথম দিকে বিশ্বাস অর্জনের জন্য কিছু টাকা ফেরতও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু তার পরে আর কিছু আসেনি।
আরও পড়ুন:
রাজীবের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, একাধিক জেলায় বিস্তৃত প্রতারণার জাল। হাওড়ার ব্যাটরা, শিবপুর, চ্যাটার্জিহাট, বি-গার্ডেন, হুগলির মগরা, কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট এবং পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন থানায় এই সংস্থার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সংস্থার নাম ব্লুমওয়েলথ ব্র্যান্ড ইকুইটি ব্রোকার প্রাইভেট লিমিটেড। চিটফান্ডের আদলে এই সংস্থা পরিচালিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ। সংস্থার ডিরেক্টর পদে ছিলেন সুজয় কাঞ্জিলাল। বিভিন্ন জেলা থেকে কোটি কোটি টাকা তাঁরা আত্মসাৎ করেছেন, দাবি তদন্তকারীদের।
সুজয়, তাঁর মা নমিতা কাঞ্জিলাল, স্ত্রী সুদৃশা কাঞ্জিলাল এবং সংস্থার তিন কর্মী তনুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, অনির্বাণ কুন্ডু এবং অভিষেক পালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে মোট ১৬ কোটি টাকা হাতানোর অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই প্রতারণাচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, আর্থিক লেনদেন, বিনিয়োগকারী প্রতারিতদের প্রকৃত সংখ্যা জানার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন তদন্তকারীরা।