ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন হুগলি জেলা পরিষদের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। তাঁকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার (এসিবি) আধিকারিকেরা। শুরু হয়েছে তদন্ত।
অভিযোগ, এলাকার সরকারি কাজের বরাত পাইয়ে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারদের কাছে টাকা চাইতেন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুমন দাস। সম্প্রতি হুগলির পোলবার এক ঠিকাদারের কাছেও ঘুষ চেয়েছিলেন তিনি। মুক্তরাম ঘোষ নামে সেই ঠিকাদার দুর্নীতি দমন শাখায় যোগাযোগ করেন। তিনি জানান, কাজের জন্য ২ লক্ষ ৬ হাজার টাকা পেতেন। সেই টাকা নিতে গেলে সাব-অ্যাসিন্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ভাগ চান। তিনি রাজি হননি। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারী পঞ্চায়েত প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১ কোটি টাকার একটি সরকারি সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে কাজের আদেশনামা জারি করা হয়। কাজটি ২০২৫ সালের শেষের দিকে সম্পন্ন হয়। কিন্তু অভিযোগকারীর দাবি, টেন্ডারের জন্য জমা দেওয়া টাকা তিনি ফেরত পাননি।
অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরতে টোপ তৈরি করেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা। তাঁদের কথা মতো মঙ্গলবার ২০ হাজার টাকা নিয়ে হুগলি জেলা পরিষদে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের ঘরে ঢোকেন তিনি। সুমন টোপ গেলেন। তিনি টাকা নেওয়ার পরপর সেখানে উপস্থিত হন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা।
আরও পড়ুন:
অভিযোগকারী পুলিশের কথামতো নোটে বিশেষ রাসায়নিক লাগিয়েছিলেন। টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ার জন্য সুমনকে হাত ধুতে বলা হয়। কথামতো তাই করেন তিনি। দেখা যায়, হাত থেকে বেগনি রং উঠছে। খবর পেয়ে চুঁচুড়া থানার আইসি উত্তম শর্মা-সহ পুলিশ আধিকারিকেরা হাজির হন জেলা পরিষদের অফিসে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে ওই ইঞ্জিনিয়ারকে।