প্রথা মেনে রথের দিন, বৃহস্পতিবার গোঘাটের কামারপুকুরের যাত্রাদলগুলির বায়না হল ঠিকই, কিন্তু তা স্বস্তি দিল না এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের। কারণ, রুগ্ন হতে থাকা শতাব্দীপ্রাচীন এই শিল্পে এ বার বিশেষ বায়না মেলেনি। অতীতের ৬০-৭০টি যাত্রাদল কমতে কমতে গত বছর পর্যন্ত ছিল ১৭টি। এ বার আরও তিনটি কমে দাঁড়াল ১৪টি। দলপিছু বায়না হয়েছে গড়ে পাঁচ-আট দিন করে।
যাত্রাদলগুলির পক্ষে মাতৃবন্দনা অপেরার কর্মকর্তা জয়ন্ত পাইন, গণেশ অপেরার সব্যসাচী মৌলিক প্রমুখের আক্ষেপ, গত বছরের চেয়ে বাজার খারাপ। গত বছর রথের দিন দলগুলি ১৭-২০টি করে বায়না পেলেও এ বার গড়ে পাঁচ রাত থেকে আট রাতের বেশি বায়না মেলেনি। তাঁদের ক্ষোভ, বিভিন্ন সরকার আসছে-যাচ্ছে, কিন্তু যাত্রাশিল্প এবং শিল্পীদের সুদিন ফেরানোর কথা কেউ ভাবছে না।
নিজের এলাকার যাত্রা শিল্পের করুণ অবস্থার কথা স্বীকার করে গোঘাটের বিধায়ক বিজেপির প্রশান্ত দিগার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা কয়েক জন বিধায়ক সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ যাত্রা অ্যাকাডেমি আয়োজিত ‘যাত্রা উৎসবে’ যোগ দিয়ে ওই সংগঠনের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তথ্য সংস্কৃতি দফতর এবং মন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। যাত্রা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। তা বাস্তবায়িতও হবে।’’