সরকারি টাকা নয়ছয় এবং পুরসভায় ‘ব্যাপক’ আর্থিক বেনিয়মে অভিযুক্ত সদ্যপ্রাক্তন পুরপ্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলেন মহকুমাশাসক। তবে প্রাক্তন পুরপ্রধানের খোঁজ মিলছে না। ঘটনায় শোরগোল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে।
বিষ্ণুপুরের সদ্যপদত্যাগী পুরপ্রধান গৌতম গোস্বামীর বিরুদ্ধে মহকুমাশাসক প্রসেনজিৎ ঘোষের অভিযোগ, তিনি একাধিক দুর্নীতি, আর্থিক বেনিয়মে অভিযুক্ত। তা ছাড়া স্বজনপোষণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল পরিচালিত ওই পুরসভার দুর্নীতি নিয়ে সরব হন বিষ্ণুপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায়। মূলত তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তরফে তদন্ত শুরু হয়।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গত মে মাসের শেষে পুরসভায় গিয়েছিল। দুদিন ধরে পুরসভার যাবতীয় আয় ও ব্যয়ের হিসাব খতিয়ে দেখে তারা। তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে বলা হয় পুরসভার টোল আদায়ে বড়সড় বেনিয়ম রয়েছে। তদন্তে এ-ও উঠে আসে অবসরগ্রহণের পরেও পুরবোর্ডের কোনও অনুমোদন ছাড়াই অস্থায়ী কর্মীদের পুরসভার কাজে বহাল করা হয়েছিল। এ ছাড়াও পুর এলাকায় একাধিক বহুতল নির্মাণের অনুমোদনে দুর্নীতি, পরিচিত এবং ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পত্তি কর মুকুব-সহ একাধিক বেনিয়মের কথা বলা হয়।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তৃণমূলের পদত্যাগী পুরপ্রধান গৌতমের বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিষ্ণুপুরের মহকুমাশাসক। তবে প্রাক্তন পুরপ্রধান পালিয়েছেন বলে দাবি শাসকদলের। বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা দাবি জানিয়ে আসছিলাম যে, বিষ্ণুপুর পুরসভায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি এবং স্বজনপোষণ চলছে। পূর্বতন সরকার কর্ণপাত করেনি। রাজ্যে পালাবদলের পর তদন্তে সেই সব দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর নিজেকে বাঁচাতে বিদায়ী পুরপ্রধান পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু এ ভাবে তিনি নিজেকে আড়াল করতে পারবেন না। তাঁকে এই দুর্নীতির জবাব দিতেই হবে।’’