জমিমালিক এবং প্রোমোটারের মারামারি! বুধবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য হাওড়ার ফজির বাজার এলাকায়। জখম জমিমালিককে ভর্তি করানো হয়েছে হাসপাতালে। অশান্তির ঘটনায় প্রোমোটার পক্ষের দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, টাকা নিয়ে যাবতীয় গন্ডগোলের সূত্রপাত। জমিমালিকের কাছে ১৬ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন প্রোমোটার। সেই টাকা না পেয়ে জমিমালিককে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পাল্টা প্রোমোটার পক্ষের দাবি, তাদের উপর প্রথমে হাত তোলা হয়েছে। ওই মর্মে দু’পক্ষই অভিযোগ করেছে করেছে হাওড়া থানায়। তদন্তের শুরুতেই দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হাওড়ার জিটি রোড পার্শ্বস্থ ফজিরবাজার এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ রফি। পরিবারের দাবি, রফি তার আড়াই কাঠা জায়গায় নির্মাণকাজ করার জন্য দিয়েছিলেন স্থানীয় প্রোমোটারদের। কয়েক জন প্রোমোটর ওই জায়গায় চারতলা একটি নির্মাণ বানান। চুক্তিমাফিক বহুতলের ৬০ শতাংশ প্রোমোটারেরা নেন। বাকি ৪০ শতাংশ দেওয়া হয় জমির মালিককে। এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। এখন জমিমালিকের পুত্র রেহান খানের অভিযোগ, তাঁদের যে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়েছে, তার কাজ শেষ করেনি প্রোমোটার পক্ষ। উল্টে তাঁদের কাছে ১৬ লক্ষ টাকা চাওয়া হচ্ছিল। কেন এত টাকা দিতে যাবেন, এ নিয়ে প্রশ্ন করলে যুক্তিগ্রাহ্য জবাব মেলেনি। উল্টে টাকা না-পেয়ে বাড়ি বয়ে এসে প্রোমোটারের লোকজন তাঁদের হুমকি দেন। মারধর করেন। রেহান বলেন, ‘‘ফ্ল্যাটে এসে লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়েছে এক প্রোমোটার এবং তাঁর দলবল। গুরুতর জখম অবস্থায় আমার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে।’’ তিনি শাহাজাদা নামে এক প্রোমোটার-সহ বেশ কয়েক জনের নামে থানায় অভিযোগ করেছেন।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, শাহাজাদা কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তাঁর পুত্রের দাবি, জমিমালিককে ৪০ শতাংশের বেশি জায়গা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সেই বেশি জমির জন্য টাকা দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুই পক্ষের অভিযোগ এবং দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে অভিযুক্ত প্রোমোটরের ছেলে সোহেল খান এবং আরবাজ খান নামে তাঁদের এক পরিচিতকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় খুনের চেষ্টার মামলা রুজু হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে।