মজুরির দাবিতে কর্মবিরতির রাস্তাই ধরলেন হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীরা। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগের হুঁশিয়ারিতেও নিজেদের সিদ্ধান্তে অনঢ় রইলেন। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুজোর এক মাস আগে পুর-পরিষেবা নিয়ে চিন্তায় জেলার সদর শহরের বাসিন্দারা। চিন্তা বেশি ডেঙ্গি-মরসুমে সাফাই নিয়ে।
মঙ্গলবার সাতসকালেই পুরভবনের সামনে ‘হুগলি-চুঁচুড়া অস্থায়ী পৌর মজদুর ও কর্মচারী সংগঠনের’ ব্যানারে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। সকাল ১০টা নাগাদ পুরসভায় এসে তাঁদের প্রতিনিধি এবং পুর-কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিধায়ক। রফাসূত্র না মেলায় অনির্দিষ্ট কালের জন্য কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে দেন আন্দোলনরত সংগঠনের নেতৃত্ব।
বিধায়ক হুঁশিয়ারি দেন, এ ভাবে ব্ল্যাকমেল করে লাভ হবে না। তিনি বলেন, ‘‘আগের তৃণমূল পুরবোর্ড নানা দুর্নীতি করেছে। তার দায় এখন পুর-প্রশাসকের ঘাড়ে পড়ছে। আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু কেউ যদি কাজ না করে পুরসভা অচল করে পয়সা দাবি করবেন মনে করেন, তা হলে আমরাও বকেয়া মেটানোর চেষ্টা করব না।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘সে ক্ষেত্রে তাঁদেরটা (শ্রমিক-কর্মচারী) তাঁরা বুঝে নেবেন। আমরাও বুঝে নেব, কী ভাবে পুরসভা চালাতে হয়।’’ সুবীরের অভিযোগ, বিগত দিনে তৃণমূল পুরবোর্ড অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করেছে, যাঁদের অনেকেই বিনা কাজে মজুরি নিয়ে যাচ্ছেন। এ জন্য কর্মীরাও দায়ী। কারণ, এমন ভূতুড়ে কর্মীদের কথা তাঁরাও জানতেন।
আন্দোলনকারী শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে রাধেশ্যাম শঙ্খবণিক বলেন, ‘‘আগের বোর্ডেও আমরা যেখানে ছিলাম, এখনও সেখানেই রয়েছি। কর্তৃপক্ষ কী করেছেন বা করছেন, আমাদের দেখে লাভ নেই। আমরা হকের মজুরি চাইছি। বকেয়া দিলেই কাজ চালু হবে।’’ জল, অ্যাম্বুল্যান্স এবং বিদ্যুৎ বাদে পুরসভার ভিতর-বাইরে আর কোনও বিভাগে পরিষেবা দেননি অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মীরা।
এই পুরসভায় আয়ের তুলনায় ব্যয় অনেক বেশি বলে সূত্রের খবর। মজুরি নিয়ে টালবাহানাই দস্তুর। শ্রমিক আন্দোলন, কর্মবিরতিও নতুন নয়। অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের কথা মানলেও পূর্বতন পুরপ্রধান তৃণমূলের সৌমিত্র ঘোষের বক্তব্য, ‘‘সব সময়ে আগের বোর্ডের উপরে দায় চাপালে হয় না। আমাদেরও মজুরি দিতে দেরি হত। কিন্তু এখনকার মতো বাকি থাকত না। নির্বাচিত পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হল। এখন দায় নেবে না, সেটা হতে পারে না।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আন্দোলন শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার। বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখা উচিত পুর-প্রশাসনের।’’
পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘বিধায়কের সামনেই কর্মী-সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি।’’