দুর্গাপুজোর প্রথম সপ্তমীর রাতে চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। ওই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই কি কালীপুজোয় কঠোর হচ্ছে প্রশাসন? সূত্রের খবর, মণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করতে একজোট হয়ে কাজ করছে কলকাতা পুরসভা, কলকাতা পুলিশ, দমকল, সিইএসসি, পূর্ত দফতর।
শহরের বিভিন্ন স্থানে কালীপুজোর মণ্ডপ নির্মাণ চলছে। পুরসভা সূত্রের খবর, ডিজি (সিভিল) ও ডিজি (আলো)-র নেতৃত্বে ইঞ্জিনিয়ারেরা শহরের বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। বাঁশ বাঁধা, নির্মাণ পরিকাঠামো খুঁটিয়ে দেখছেন তাঁরা। পুজো কমিটিগুলিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। বাঁশ বাঁধা থেকে শুরু করে মণ্ডপের সার্বিক নির্মাণে যাতে কোনও ফাঁক না থাকে, তা নিয়ে পুরসভার সিভিল দফতরের তরফে মণ্ডপগুলিকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লালবাজার সূত্রের খবর, মণ্ডপ তৈরি এবং তার সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে নগরপালের নির্দেশের পরেই বিভিন্ন থানার তরফে কলকাতা পুরসভা, দমকল, পূর্ত দফতর এবং সিইএসসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারই সূত্রে গত কয়েক দিন ধরে একাধিক বার মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন পুরসভা, দমকল-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা।
কালীপুজোয় ফাটানো বাজির থেকে যাতে অগ্নিকাণ্ড না ঘটে, তাই মণ্ডপের অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, কলকাতার বিভিন্ন থানার আধিকারিকেরাও মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। আজ, মঙ্গলবারের মধ্যে তার রিপোর্ট লালবাজারে পাঠানোর কথা। তার আগে উপ-নগরপালেরাও প্রয়োজন মতো পরিদর্শন করে লালবাজারে রিপোর্ট পাঠাবেন। সব শেষে লালবাজারের শীর্ষ কর্তারা ফের মণ্ডপ পরিদর্শন করবেন।
পুলিশের এক কর্তা জানান, মণ্ডপের কাঠামোর স্থিতিশীলতার শংসাপত্র দেবেন পুরসভা ও পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরা। কাঠামো কতটা ওজন বইতে সক্ষম এবং মণ্ডপের স্থিতিশীলতা— দু’টিই পরখ করা চলছে বলে দাবি। মণ্ডপে ঢোকা ও বেরোনোর রাস্তাও পুলিশ দেখছে বলে জানানো হয়েছে।
লালবাজার সূত্রের খবর, কলকাতায় আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকায় পাঁচটি বড় পুজো হয়। সেখানে মোট পুজো হয় ৮০টি। জনসমাগমও বেশি হয়। ওই থানার তরফে পুরসভা, দমকল, পূর্ত দফতর এবং সিইএসসি-কে নিয়ে একাধিক বার পরিদর্শন করে সব ব্যবস্থা দেখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।