স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অভিযোগের আঙুল উঠেছে রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির একাংশের বিরুদ্ধে। এ বার রাজ্যের প্রায় ২০০টি নার্সিংহোমের ‘ক্লিনিকাল এস্টাব্লিশমেন্ট লাইসেন্স’ নেই বলে অভিযোগ তুলল ছোট-মাঝারি মাপের নার্সিংহোমগুলির সংগঠন। পাশাপাশি, কতিপয় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে দুর্নীতি করেছে বলেও সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেছে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোমস’।
স্বাস্থ্যসাথীর দুর্নীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই তাঁর কাছে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ বেনামে চিঠি পাঠাতে শুরু করেছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘আমার বাড়িতেও চিঠি আসছে। স্বাস্থ্যসাথীর দুর্নীতি নিয়ে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টও হাতে এসেছে।’’
আবার সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক, চিকিৎসক রাজীব পাণ্ডে বলেন, ‘‘পাঁচ শতাংশ হাসপাতাল দুর্নীতিগ্রস্ত। সেই দুর্নাম সকলকে ছায়ার মতো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এটা থেকে আমাদের বেরোতে হবে।’’ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে দুর্নীতিগ্রস্ত নার্সিংহোমগুলিকে চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই তাঁরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন বলেও দাবি করেন রাজীব। তিনি আরও বলেন, ‘‘যে সব নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসাথীতে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের সংগঠনের সদস্য হিসেবে রাখা হবে না।’’
একই ভাবে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কী ভাবে প্রায় ২০০টি নার্সিংহোম চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, ওই সমস্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকেও সদস্য হিসেবে রাখা হবে না। এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন ‘ফেডারেশন অব প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোমস’-এর সর্বভারতীয় সভাপতি এইচ এম প্রসন্ন।
বেসরকারি হাসপাতাল চালু করতে এক-জানলা লাইসেন্স ব্যবস্থা, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অস্থি-শল্য অস্ত্রোপচারের প্যাকেজের মূল্য বৃদ্ধি, বেসরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং রাজ্যের সরকারি সার্ভিল্যান্স দলে বেসরকারি হাসপাতালের প্রতিনিধি রাখার বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন সর্বভারতীয় সভাপতি।