গত শনিবার মা উড়ালপুলে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল দু’টি গাড়ির। যার জেরে আহত হয়েছিলেন এক শিশু-সহ চার জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি গাড়ির চালক, বছর ৩২-এর গোপাল চৌধুরী। তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারে। রবিবার রাতে হাসপাতালে মৃত্যু হল তাঁর। চিকিৎসকদের অনুমান, দেহের ভিতরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। দাদা কার্তিক চৌধুরী বলেন, ‘‘ভেবেছিলাম, ভাইকে সুস্থ করে বাড়ি নিয়ে যেতে পারব। এ ভাবে চলে গেল, ভাবতে পারছি না।’’ কার্তিক আরও জানান, একটি বেসরকারি ড্রাইভার বুকিং অ্যাপে কাজ করতেন গোপাল। অ্যাপের মাধ্যমেই শনিবার বুকিং পেয়েছিলেন। বন্ধু সঞ্জয় দাস বলেন, ‘‘গোপাল যথেষ্ট সচেতন ভাবে গাড়ি চালাত। সে দিন যে কী হয়ে গেল!’’
প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে পার্ক সার্কাসের সাত মাথার মোড়ের দিক থেকে মা উড়ালপুল ধরে ই এম বাইপাসের দিকে যাচ্ছিল একটি জিপ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অত্যন্ত দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে জিপটি পথ-বিভাজিকা টপকে উল্টো দিকের লেনে ঢুকে পড়ে। সেই সময়ে উল্টো দিক থেকে আসা একটি ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। ধাক্কার অভিঘাতে জিপের একটি চাকা খুলে যায়। গাড়িটিরও ডান দিক দুমড়ে যায়। আহত হন গোপাল-সহ গাড়ির মালিক অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর স্ত্রী স্বর্ণালী রায় ও তাঁদের চার বছরের ছেলে রায়ান। তাঁদের তিন জনকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনার পরে জিপের চালক রাহুল সিংহকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত ভাবে হত্যার চেষ্টা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর-সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছিল। গোপালের মৃত্যুর পরে পুলিশ অনিচ্ছাকৃত ভাবে হত্যার ধারা যুক্ত করেছে। তদন্তে নেমেছে লালবাজার ট্র্যাফিক বিভাগের ফেটাল স্কোয়াড।