Advertisement
E-Paper

তৃণমূল আবার সরকারে ফিরবে! ছাত্রসমাবেশে বার্তা মমতার, পুলিশকে বিঁধে জেলা সফরের হুঙ্কার, তোপ ঋতব্রত শিবিরকেও

ক্যাথিড্রাল রোডের সভা থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অভিযোগও করেছেন মমতা। ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসেও দুই তৃণমূলের বিভাজন ২১ জুলাইয়ের মতোই রাস্তায় নেমে এল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ অগস্ট ২০২৬ ১৮:০১
Mamata Banerjee says she will come to power again

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ক্যাথিড্রাল রোডে। ছবি: পিটিআই।

ক্ষমতাচ্যুত হাওয়ার চার মাসের মধ্যেই ফের সরকারে ফেরার ‘বার্তা’ দিলেন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাদিবসের সভায় মমতা বলেন, ‘‘চিন্তা করবেন না। বিজেপির অন্যায়ের জবাব বিজেপির লোকেরাই দেবে। খুব তাড়াতাড়ি তৃণমূল কংগ্রেস আবার সরকারে ফিরবে।’’

ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসেও দুই তৃণমূলের বিভাজন ২১ জুলাইয়ের মতোই রাস্তায় নেমে এল। মমতার শিবির সভা করল ক্যাথিড্রাল রোডে। আর আপাতত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির সভা করল রানি রাসমণি রোডে ম্যারাপ বেঁধে। তবে ২১ জুলাইয়ের মতো শুক্রবারও মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের কালীঘাট শিবিরের সভার জমায়েতই এগিয়ে রইল। যদিও ঋতব্রত তৃণমূলের দুই ছাত্রনেতা কোহিনুর মজুমদার এবং সুদীপ রাহার বক্তব্য, তাঁদের সমাবেশ সফল। আদালত লোকসংখ্যা বেঁধে দিয়েছিল। সেইমতোই তাঁরা কর্মসূচি পালন করেছেন।

(বাঁদিক থেকে) রানি রাসমণি রোডের মঞ্চে সুদীপ রাহা, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

(বাঁদিক থেকে) রানি রাসমণি রোডের মঞ্চে সুদীপ রাহা, অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

গত ২১ জুলাইয়ের সমাবেশও হয়েছিল আদালতের অনুমতিসাপেক্ষে। তবে সেই সভার পরে আদালতের নির্দেশ আমান্য করার অভিযোগে নোটিস গিয়েছিল মমতার কাছে। তবে শুক্রবার দেখা যায়, মমতাই মঞ্চ থেকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন। ক্যাথিড্রাল রোডের একটি লেন খোলা ছিল। সেই রাস্তায় একসময় বাস, ট্রাক ঢুকে পড়ে। আটকে পড়ে অ্যাম্বুল্যান্সও। মমতা মঞ্চে এসেই অভিযোগ করেন, সভা ভেস্তে দিতে পুলিশ গাড়ি ঢুকিয়ে দিয়েছে। প্রায় ২৫ মিনিট সভা বন্ধ রেখে মাইক হাতে মঞ্চ থেকে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করেন মমতা। তার পরে দেখা যায়, ওই লেনটিতে তারামণ্ডলের সামনে গার্ডরেল লাগিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

ছাত্রসমাবেশ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অভিযোগ করেছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশ আমাদের সভা, মিছিল করার অনুমতি দিচ্ছে না। আমি স্পষ্ট বলছি, এর পর আমি জেলায় যাব। পুলিশ অনুমতি না-দিলে জনতার অনুমতি নিয়ে প্রোগ্রাম করব। দরকার হলে হাঁটব। তার পর দেখি তোমরা কী করো!’’

মমতার আগে বক্তৃতা করতে উঠে অভিষেকও পুলিশের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। গতকাল ক্যামাক স্ট্রিটে তাঁর দফতরে লাগানো বিলবোর্ড খুলতে পুরসভা ও পুলিশের অভিযানকে আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, ‘‘অত্যাচার ততটাই করো, যতটা সহ্য করতে পারবে।’’ সভামঞ্চে অভিষেক, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ নেতারা ঋতব্রত শিবির এবং দিল্লিতে এনসিপিআই-তে শামিল হওয়া ২০ জন সাংসদকে বেইমান বলে আক্রমণ করেন। সেই সঙ্গে আওয়াজ তোলেন, কোনও অবস্থাতেই তাঁদের যাতে আর দলে না-ফেরানো হয়। সেই রেশ ধরে মমতাও বলেন, ‘‘ওঁদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই কল্যাণেরা লড়ছেন। মানুষের কাছেও ওঁদের জবাব দিতে হবে। আবার একটা পরিবর্তন আসছে।’’ দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলনের জেরে যে ভাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা দিতে হয়েছে, তা-ও যে তৃণমূলের জন্য ইতিবাচক, তা স্পষ্ট করে দেন মমতা এবং অভিষেক।

অন্য দিকে, রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে ঋতপন্থীরা মৃদু স্বর তুললেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তবে চড়া আক্রমণ করেছেন মমতার উদ্দেশে। একদা মমতার ছায়াসঙ্গী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিনের পর দিন বন্ধ রেখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা বললেও কান দেননি। ফলে অ্যাডমিশন দালালেরা ছাত্রনেতা হয়ে উঠেছিল।’’

Mamata Banerjee TMCP Foundation Day West Bengal Politics

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy