পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে আইনজীবী শামিম আহমেদের উপর হামলার ঘটনায় সরব হলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ওই আইনজীবীর উপর আক্রমণ গভীর উদ্বেগের। মমতার দাবি, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এর আগে কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়েছিল। এ বার ‘আক্রমণ’ হল শামিমের উপর। সায়নের মতো শামিমও বামপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। তাঁদের পাশে থেকে মমতার নিন্দাপ্রকাশে রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
বিধানসভা ভোটে হারের পরই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাম, অতিবাম দলগুলিকে নিয়ে একসঙ্গে চলার ডাক দিয়েছিলেন মমতা। সম্প্রতি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’য় ফের বামেদের সঙ্গে কাছাকাছি এসেছেন তিনি। সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি চিঠি পাঠিয়েছেন মমতাকে। ফোনেও কথা হয়েছে দু’জনের। এ অবস্থায় মমতার এই প্রতিক্রিয়া আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন:
শনিবার শালবনি থেকে ফেরার পথে শামিম এবং তাঁর সহযোগী আইনজীবীরা আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। শামিমের দাবি, তাঁরা বেনাচাপাড়ায় ঘরছাড়া পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে পুলিশের সামনেই তাঁদের গাড়িতে হামলা হয়। বাঁশ, শাবল ও লাঠি নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ। সঙ্গে থাকা এক মহিলা আইনজীবীকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন শামিম। পরে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের হস্তক্ষেপে তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।
রবিবার ওই ঘটনা প্রসঙ্গে এক্স মাধ্যমে নিন্দাপ্রকাশ করেন মমতা। তিনি লেখেন, “আমি জেনে শঙ্কিত যে, ওই আইনজীবীকে অভিযোগের বয়ান বদলানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের পরে শামিম নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শ নির্বিশেষে প্রত্যেক আইনজীবীর ভয়মুক্ত পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অধিকার রয়েছে।” ওই আক্রমণের ঘটনায় বিজেপি-কে দায়ী করেছেন মমতা। তাঁর কথায়, “বিজেপির গুন্ডাদের দ্বারা বার বার হামলার ঘটনা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।”
অতীতেও বিভিন্ন আইনজীবীর উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বারে বাম মনোভাবাপন্ন বলে পরিচিত আইনজীবীদের উপর আক্রমণের ঘটনায় মমতা যতটা সরব হলেন, অতীতের ঘটনাগুলিতে তেমন দেখা যায়নি বলে মত অনেকের। মমতা সমাজমাধ্যমে পোস্টে করার পর শামিম বলেন, “অতীতের ভুলকে শুধরে নিয়ে সংবিধানকে রক্ষা করতে মানুষ যদি এগোতে চায়, আমরা সবাই একসঙ্গে লড়ব। সব নাগরিক একসঙ্গে লড়ব।”
আইনজীবী শামিম এবং তাঁর সহকর্মীদের উপর আক্রমণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে দাবি কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর। তিনি বলেন, “বিচারব্যবস্থা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আর আইনজীবীরা বিচারব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বা তাঁদের আইনি সাহায্য করতে গিয়ে যদি কোনও আইনজীবীকে ভয় দেখানো বা হেনস্থা করা হয়, তা হলে তা আইনের শাসনের জন্যই উদ্বেগের বিষয়।” ওই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন অধীর।
রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র কেয়া ঘোষ এ প্রসঙ্গে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে শুধু আইনজীবীদের উপরে নয়, বিচারপতিদের উপরেও নির্মম অত্যাচার হয়েছে।” এ প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের আমলে তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভের কথা তুলে ধরেন তিনি। শামিমের ঘটনা প্রসঙ্গে কেয়া জানান, আইনজীবীর সঙ্গে যা হয়েছে, সেটি দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপি-কে জুড়ে দেওয়াও কাম্য নয় বলে মত তাঁর। মমতাকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “এটিকে বিজেপি বলে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক ততটাই সত্য, যতটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের প্লাস্টার।”