সাতসকালে মুর্শিদাবাদে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল চার স্কুলপড়ুয়া-সহ মোট পাঁচ জনের।
রেলগেট খোলা ছিল। হুড়মুড়িয়ে চলে এল ট্রেন। কোনও রকম বাধা না পেয়ে তখনই লাইন পেরোচ্ছিল একটি স্কুলগাড়ি। লাইনের উপর থাকা ওই স্কুলগাড়িকে পিষে দিয়ে চলে গেল ডাউন লোকাল। শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদ জেলার আজিমগঞ্জ-কাটোয়া শাখার কর্ণসুবর্ণ স্টেশন এবং গোবিন্দপুর রেলগেটের মাঝে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় চার স্কুলপড়ুয়া-সহ মোট পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাড়ির চালককে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৭টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ডাউন লাইন ধরে তখন আসছিল নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঠিক তার আগেই আপ লাইন ধরে হাওড়াগামী নবদ্বীপ এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার পর গোবিন্দপুর রেলগেটটি আর বন্ধ করা হয়নি। গেট খোলা দেখেই বেশ কয়েক জন স্কুলপড়ুয়াকে নিয়ে গাড়িটি রেললাইন পার হচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই তীব্র গতিতে ধেয়ে আসে নিমতিতা-কাটোয়া লোকাল এবং সরাসরি ধাক্কা মারে স্কুলভ্যানটিতে।
ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায় স্কুলগাড়িটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই স্কুলপড়ুয়া এবং এক স্থানীয় বাসিন্দার। পরে মৃত্যু হয় আরও দুই স্কুলপড়ুয়ার। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় বহরমপুর থানার পুলিশ। গাড়িতে মোট ১০ জন পড়়ুয়া ছিল বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় রেলের ভূমিকা ও গেটম্যানের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতা’ নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, গেটম্যানের অসতর্কতাতেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। কারও কারও আবার দাবি, গেটম্যান নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তাই নির্দিষ্ট সময়ে লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ করেননি তিনি।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও রেল কর্তৃপক্ষ। কী কারণে দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে রেলের তদন্তকারী দল। দুর্ঘটনার পর চালকের ভাই বলে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আপ লাইন ধরে একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পরেই গেটম্যান গেট খুলে দেন। তার পরেই স্কুলভ্যানটি লেভেল ক্রসিং পেরোতে যায়। সেই সময় ডাউন লাইন ধরে ছুটে আসা ট্রেন ধাক্কা মারে গাড়িটিকে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে যান বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনিও গেটম্যানকে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করেন। সেই সময় ট্রেন আসছে জেনেও গেটম্যান কেন গেট খুলে দিলেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।