স্মার্টফোন চেয়ে প্রশাসনে আবেদন জানিয়েছেন একাংশ গণনাকর্মী। কারও দাবি, স্মার্টফোন নেই। আবার কারও দাবি, তাঁর স্মার্টফোনটি আধুনিক সংস্করণের নয়। এতে বিড়ম্বনায় পড়েছে প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এখন ব্লক ও পুরসভাস্তরে গণনাকারীদের প্রশিক্ষণপর্ব চলছে। গত ২০ জুলাই থেকে ব্লকস্তরে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হবে ২৯ জুলাই। ব্লকস্তরে গণনাকারীদের (এনুমারেটর) প্রশিক্ষণ শিবিরেও জনগণনার কাজে স্মার্টফোন দেওয়ার দাবি উঠেছে! কেউ দাবি জানিয়েছেন মৌখিকভাবে, কেউ লিখিতভাবেই! অগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে জনগণনার কাজ। চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরেও।
পশ্চিম মেদিনীপুরে ২১টি ব্লক, ৭টি পুরসভা। এই জেলায় ‘এনুমারেটর’ অর্থাৎ গণনাকারী প্রায় ৯,৫০০ জন। ‘সুপারভাইজ়ার’ রয়েছেন প্রায় ১,৫০০ জন। অর্থাৎ, জনগণনার কাজে যুক্ত প্রায় ১১ হাজার কর্মী। জানা গিয়েছে, গড়ে ৬-৭ জন গণনাকারীপিছু একজন ‘সুপারভাইজার’ নিযুক্ত করা হয়েছে। ৭৫০- ৮০০ জনসংখ্যাপিছু অর্থাৎ, প্রায় দেড়শো বাড়িপিছু একজন গণনাকারী নিযুক্ত করা হয়েছে।
কেউ চাইলে অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম জমা দিতে পারবেন। ১ থেকে ১৫ অগস্ট এই ফর্মপূরণ করা যাবে। অর্থাৎ, অনলাইনে স্ব-গণনার (সেলফ এনুমারেশন) জন্য ১৫ দিন সময় থাকছে। ১ থেকে ১৫ অগস্ট অবধি স্ব- গণনা চলবে। এরপরের এক মাসের মধ্যে (১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর) বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন গণনাকারীরা। প্রথম পর্বে মূলত বাড়ি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ হবে। পরের পর্বে বাড়ির সদস্য সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ হবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে শেষবার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। নিয়মানুযায়ী দশ বছর অন্তর এই কাজটি হওয়ার কথা।
সংগৃহীত তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে সংশ্লিষ্ট পোর্টালে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে সরাসরি পোর্টালে তথ্য আপলোড করবেন গণনাকর্মীরা। এক গণনাকারী শোনাচ্ছেন, ‘‘প্রশিক্ষণ শিবিরে গিয়ে যা বুঝেছি, তাতে জনগণনার মোবাইল অ্যাপ শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড ১২ বা তার উপরের সংস্করণেই চলবে। আমার কাছে ভাল স্মার্টফোন নেই। তাই জনগণনার কাজে স্মার্টফোন দেওয়ার কথা বলেছি।’’
প্রশাসন অবশ্য স্পষ্ট জানাচ্ছে, এমন আবেদন মানা সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এ ক্ষেত্রে স্মার্টফোন দেওয়ার সংস্থানই নেই। কোনও অন্যায় আবদার চলবে না।’’ তিনি মনে করাচ্ছেন, ‘‘এই কাজের জন্য গণনাকর্মীদের সাম্মানিক দেওয়া হবে।’’