আসন সংখ্যা ২৫০। কিন্তু সেখানে ভর্তি নেওয়া হয়েছে ২৫৪ জনকে। শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস পাঠ্যক্রমের প্রথম বর্ষে এই ঘটনায় শুরু হয়েছে হইচই। অনুমোদন না মিললে চার পড়ুয়ার ভবিষ্যতও পড়তে পারে প্রশ্নের মুখে। সমস্যাটি নিয়ে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কাউন্সিল (এনএমসি)-এর দ্বারস্থ হয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট আসনের থেকে বেশি পড়ুয়া কী করে ভর্তি নেওয়া হল, তা নিয়ে অবাক স্বাস্থ্য-কর্তাদের একাংশ। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় শনিবার বলেন, “এমন হয়েছে বলে জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব।”
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস-এর প্রথম বর্ষে চলতি বছরেই ৫০টি বেড়ে ২৫০টি আসন হয়েছে। কিন্তু সূত্রের খবর, ক্লাস করছেন ২৫৪ জন পড়ুয়া। কী ভাবে হল এমন?
মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ সুজয় মিস্ত্রি বলেন, “কোনও ভাবে ব্যাপারটা ঘটে গিয়েছে। আমরা সমস্যা মেটাতে এনএমসি-কে বলছি।” কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম দায়িত্বে থাকা ডিন (স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স) অনুপম নাথ গুপ্তের দাবি, “ভর্তি প্রক্রিয়ায় কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে প্রার্থীদের নাম পাঠানো হয়। সে ভাবেই ভর্তি নেওয়া হয়েছে। কী ভাবে চার জন বাড়তি ভর্তি হল, তা এনএমসি কর্তৃপক্ষই বলতে পারবেন।”
কিন্তু আসন সংখ্যার চেয়ে বাড়তি পড়ুয়া ভর্তির বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষের নজর এড়াল কী ভাবে?
সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকায় (নিট) দেশে এবং রাজ্য স্তরে র্যাঙ্ক অনুযায়ী মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া ভর্তি নেওয়া হয়। ‘এনএমসি’ সেই হিসাবেই ‘কাউন্সেলিং’ করে কোনও নির্দিষ্ট মেডিক্যাল কলেজে আসন সংখ্যা অনুসারে পড়ুয়াদের সেখানে ভর্তিতে সম্মতি দেয়। সেই তালিকা সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। পড়ুয়ারা সম্মতিপত্র নিয়ে কলেজে ভর্তি হতে যান। তালিকা মিলিয়ে পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য-কর্তারা জানাচ্ছেন, ‘কাউন্সেলিং’ থেকে আসন পূরণ—সবই হয় অনলাইনে। তা ছাড়া, ‘এনএমসি’-র নির্দিষ্ট করা আসনের থেকে বেশি ভর্তির অনুমোদন কখনই দেওয়া হয় না।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ সূত্রের খবর, কলেজের আসন সংখ্যার মধ্যে চারটি কেন্দ্রের ‘কোটা’য় সংরক্ষিত। কেন্দ্রের সুপারিশে রাজ্য স্বাস্থ্য-শিক্ষা দফতরের মাধ্যমে সেগুলিতে ভর্তি নেওয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে তেমন সুপারিশ আসেনি। কলেজের আসন সংখ্যা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম শেষে উত্তীর্ণ পড়ুয়ারা স্বীকৃতির শংসাপত্র পান। তাই অনুমোদন না থাকা বাড়তি আসনের পড়ুয়াদের স্বীকৃতি পেতে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের অধ্যক্ষ বলেন, “কেন্দ্রীয় কোটাতে পড়ুয়া ভর্তির সুযোগ রয়েছে। তেমন কোনও একটা ব্যবস্থা আশা করি এনএমসি-র তরফে করা হবে।”
সহ প্রতিবেদন: শান্তনু ঘোষ