ছ’বছরের মাথায় নবদ্বীপের রাসে ফিরছে ‘নবমী।’ একেবারে নব রূপে। এত দিন রাসের নবমী বলতে যে বেলাগাম উচ্ছৃঙ্খলতা দেখে এসেছে নবদ্বীপ, তার বদলে যেতে চলেছে নবগঠিত কেন্দ্রীয় রাস কমিটির হাত ধরে। মদবর্জিত, একাধিক কড়া শর্তসাপেক্ষে নবমী করার অনুমতি পাবে রাস বারোয়ারিগুলি। শর্ত ভঙ্গে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নবমীতে নিয়ম ভাঙলে পরবর্তী তিন বছরের জন্য সেই বারোয়ারির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসাবে পুজোর অনুমতি বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বারোয়ারি কমিটির মাথাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানা গিয়েছে।
পালাবদলের পরে এই প্রথম রাস হচ্ছে নবদ্বীপে। তাই সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হয়েছে রাসের পুরনো কেন্দ্রীয় কমিটি। নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদাধিকারীরা রবিবার দুপুরে নবদ্বীপ প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আসন্ন রাসের বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করেন। ছিলেন নতুন রাস কমিটির সভাপতি শ্রুতিশেখর গোস্বামী, কার্যকরী সভাপতি জীবনকৃষ্ণ সেন, মুখ্য উপদেষ্টা অপর্ণা নন্দী, সম্পাদক সমীর রায়, যুগ্ম সম্পাদক শঙ্কর দেবনাথ-সহ বিভিন্ন পদাধিকারীরা।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে কোভিডের কারণে নিষিদ্ধ হয় রাসের নবমী, আড়ং ও রাস কার্নিভাল। পরের বছর আড়ং, কার্নিভাল ফিরলেও নবমীর অনুমতি আর মেলেনি যা নিয়ে জনমত দ্বিধাবিভক্ত ছিল। রাসের সঙ্গে যুক্ত যুবসমাজের নবমী বন্ধে প্রবল ক্ষোভ থাকলেও অধিকাংশ নবদ্বীপবাসীর মতে, এর ফলে রাস হয়ে উঠেছিল অশান্তিমুক্ত এবং উপভোগ্য। দিনভর মদ্যপ অবস্থায় নবমী করতে বেরিয়ে শহর জুড়ে তুমুল গন্ডগোলের জেরে আনন্দের রাস হয়ে উঠত শহরবাসীর আশঙ্কা, উদ্বেগের কারণ।
নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, “বিগত সরকার নবদ্বীপের রাসকে রাজ্যের উৎসব তালিকায় তুলে আনার কোনও উদ্যোগ নেয়নি। আমাদের পণ নবদ্বীপের ব্যতিক্রমী রাস যাতে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভ করে। সেই উদ্দেশ্যে এ বার রাস পরিচালিত হবে কঠোর নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে।” নবমী চালু করলেও তার খোলনলচে বদলে যেতে চলেছে বলে জানান কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা তথা বিজেপির নদিয়া দক্ষিণের সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী। তিনি বলেন, “নবদ্বীপের রাসের ঐতিহ্যকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য আমরা দায়বদ্ধ। নবমী হবে, তবে মদবর্জিত। শুধু উদ্দাম তাসা বাজিয়ে নাচ নয়, লাগামছাড়া আচরণ নয়। চৈতন্যধাম নবদ্বীপের সঙ্গে মানানসই রাস হবে।”
অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় রাস কমিটির কার্যকরী সভাপতি জীবনকৃষ্ণ সেন বলেন, “এ বার আড়ং দু’দিনে হবে। প্রথম দিন ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা এবং পুরানো বারোয়ারিগুলি, দ্বিতীয় দিন কার্নিভালে যোগদানকারী এবং অপেক্ষাকৃত নবীন প্রতিমাগুলি বেরোবে। সুষ্ঠু ভাবে রাস পরিচালনা করতে আসবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।” সম্পাদক সমীর রায় বলেন, “নবমীতে যোগদানকারী বারোয়ারিগুলিকে লিখিত আবেদন করতে হবে যেখানে কিছু শর্ত উল্লিখিত থাকবে। শর্ত না মানলে নবমীর অনুমোদন মিলবে না।”
নবমী মানেই মদ খেয়ে, তাসা বাজিয়ে নাচ এবং পরস্পর অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ার যে দীর্ঘদিনের অধ্যায় তা থেকে মুক্তি মিলবে কিনা, তার উত্তরের জন্যই অপেক্ষা এখন।